বিশ্বকাপের মঞ্চে বেলজিয়াম মানেই চোখ ধাঁধানো পাসিং ফুটবল, গতিময় আক্রমণ আর ইউরোপীয় ফুটবলের এক আধুনিক পরাশক্তি। বিশ্ব ফুটবলে ‘রেড ডেভিলস’ নামে পরিচিত এই দলটি কোনো বড় শিরোপা না জিতলেও তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা যেকোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানের চেয়ে কম নয়। এক দশক ধরে ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করে রাখা এই দলটি ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। তখন মনে হয়েছিল, ইডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনা ও রোমেলু লুকাকুদের নিয়ে গড়া বেলজিয়ামের এই সোনালি প্রজন্ম হয়তো খুব দ্রুতই বিশ্ব ফুটবলের কোনো বড় মুকুট মাথায় পরবে। কিন্তু এরপরই এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।
২০১৮ সালের সেই মহাকাব্যিক সাফল্যের পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। মরক্কো, ক্রোয়েশিয়া ও কানাডার গ্রুপ থেকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। এই লজ্জাজনক বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। হ্যাজার্ড ফুটবলকেই বিদায় জানিয়েছেন, আর থিবো কোর্তোয়া ও রোমেলু লুকাকুরা পা দিয়েছেন ত্রিশের কোঠায়। এমন এক ক্রান্তিকালে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দলের হাল ধরেন ফরাসি মাস্টারমাইন্ড রুডি গার্সিয়া। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে স্বর্ণালী প্রজন্মের শেষ সুযোগ ও হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই মিশন শুরু করবে বেলজিয়াম।
রুডি গার্সিয়ার নতুন কৌশল ও আধুনিক দর্শন
২০২৫ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেলজিয়াম ফুটবলকে নতুন এক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন কোচ রুডি গার্সিয়া। বেলজিয়ামের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ও দ্রুতগতির পাসিং ফুটবলের সঙ্গে তিনি যোগ করেন নতুন এক ভারসাম্য। স্বর্ণালী প্রজন্মের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদের দলে টেনে এক সুশৃঙ্খল দল গঠন করাই গার্সিয়ার মূল কৌশল। কাতার বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে ২০২৬-এর এই মহামঞ্চে দলকে আবার বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে যাওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
মূল ভরসা : ডি ব্রুইনা, তিলেমানস ও ডোকু
রোমেলু লুকাকু উরুর চোটের কারণে এই মৌসুমে নাপোলির হয়ে মাঠে নামতে পারেননি এবং ফর্মহীনতায় ভুগছেন। তাই আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ও পুরো দলের অন-ফিল্ড লিডারশিপ থাকবে নাপোলির তারকা কেভিন ডি ব্রুইনার ওপর। বাছাইপর্বে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করে তিনিই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ ও আক্রমণের সেতুবন্ধন হিসেবে আসল ভরসা জোগাবেন অ্যাস্টন ভিলার ইউরি তিলেমানস। আর প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূর্ণ করার জন্য উইংয়ে গতির ঝড় তুলবেন ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ তুর্কি জেরেমি ডোকু।