জোরপূর্বক শ্রম ঠেকাতে ৬০ দেশের পণ্যে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি ঠেকানোর অভিযোগে ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত।

শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এ শুল্ক কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের লক্ষ্য করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন শুল্কের আওতায় থাকা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত। এ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায়। এই ধারায় অন্যায্য, অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমদানি শুল্ক বা অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। ওই রায়ের পর আমদানিকারকদের দেওয়া শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যেতে হয় প্রশাসনকে।

পরে ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন। তবে এ ধারায় সর্বোচ্চ ১৫০ দিন পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর রাখা যায়, যার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হচ্ছে।

নতুন শুল্ক ঘোষণার আগে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি দেশ জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করায় তাদের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, দেশটির পণ্যে প্রস্তাবিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

তবে কিছু পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে তেল, গ্যাস ও সার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া পণ্যও এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এসব শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের খরচ বাড়বে এবং সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হলেও শুল্ক আরোপের পদ্ধতি নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার। দ্য হিউম্যান ট্রাফিকিং লিগ্যাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিনা ভ্যানডেনবার্গ বলেন, আমদানি নিষেধাজ্ঞা জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবে দেশগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে জোরপূর্বক শ্রমের শিকার ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শুল্ক নীতির মাধ্যমে দেশগুলো তাদের শ্রমনীতি পরিবর্তনে চাপ অনুভব করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইন ও নতুন শুল্ক নীতির প্রভাবে ভারতসহ কয়েকটি দেশ তাদের আমদানি নীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শুল্ক আরোপ করলেই জোরপূর্বক শ্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য স্বচ্ছ তদন্ত, নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত