নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভা এলাকায় একটি সড়কের কালভার্ট দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া পৌরসভার টুনিপাড়া মহল্লায় ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার কারণে সড়কটিতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। এই সড়ক ব্যবহার করে পৌরসভার পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এছাড়া কাদিরাবাদ সেনানিবাস, বনপাড়া বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদেরও এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, এখনো বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় কষ্ট করে বিকল্পভাবে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে। তবে বর্ষা শুরু হলে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভাটটি ভেঙে নিচে পড়ে আছে। ভাঙা থাকার কারণে অনেক যাত্রী কালভাটের সামনে থেকে ফিরে আসছেন। ভ্যানগাড়িগুলো চার থেকে পাঁচ জন মিলে ঠেলে পার করছেন।
ঠুনিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, দুই মাসেরও বেশি সময় কালভার্টটি ভেঙে পড়ে আছে। অথচ একবারের জন্যও কেউ এসে খোঁজ নেয়নি। এটি মহল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা বাঁশের একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছিলাম, সেটিও ভেঙে গেছে। রাতের আঁধারে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাই দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সোহাগ আলী বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চার শতাধিক মোটরসাইকেল চলাচল করে। বর্তমানে আম-লিচুর মৌসুম হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহনও এই পথ ব্যবহার করছে। শুধু পৌরসভার মানুষ নয়, আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের বাসিন্দারাও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। তাই কালভার্টটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
