রাশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গতকাল সোমবার মস্কোয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অঙ্গীকারের কথা জানান।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে খলিলুর রহমান তিন দিনের সফরে মস্কো গেছেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিনন্দন জানান।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, গবেষণা ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহন এবং প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত ও ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও গভীর করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো, রাশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রপ্তানির সুবিধা দেওয়া এবং বাংলাদেশি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য অনুরোধ জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়াকে বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে হালকা থেকে ভারী প্রকৌশল, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি ব্রিকসে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সদস্যপদের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেন।
খলিলুুর রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ত্বরান্বিত করতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
তারা রাশিয়ায় নিরাপদ ও সুরক্ষিত কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিয়োগের বিষয়েও আলাপ করেন।
উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশ মিয়ানমারে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়েও আলোচনা করেন। ল্যাভরভ রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তার দেশের সহায়তার আশ^াস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমাইউন কবির ও রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলামও বৈঠকে অংশ নেন।