স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

টিআইবির রিপোর্ট পেপার কাটিং

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ এএম

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-ধর্ষণ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনটি শুধু পেপার কাটিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না, সেই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে দেশে অপরাধ কমেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

টিআইবির প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার সামনে সেই রিপোর্টটা (টিআইবি) নেই। আমরা মাস ভিত্তিতে অপরাধের স্টেটমেন্ট করে থাকি। ডাকাতি, খুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ তালিকাভুক্ত করা হয়। কয়েকদিন আগে আমার কাছে আরেকটি রিপোর্ট এসেছিল, সেখানে দেখেছি ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধের চিত্র বর্তমান সরকারের সময়ে অনেক বেশি উন্নতি লাভ করেছে, অনেক অপরাধ কম। টিআইবি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আপনারা তাদের মূল্যায়ন নিচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, টিআইবি সরকারি সংস্থা না, টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিংয়ে, টিআইবি কোনো তদন্ত করে না। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে তারপর কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না। আমাদের সামনে রয়েছে পুলিশের অপরাধের তথ্য। জেলা থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করি, এটাই প্রকৃত তথ্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পত্রিকায় অনেক খবর প্রকাশিত হয়, সেগুলো আমরাও নজরে আনি। প্রকাশিত প্রতিটি ঘটনা যে সঠিক সে রকম বলা যাবে না। পত্রিকার লেখার স্বাধীনতা আছে, সেগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠাই। সব পত্রিকার কাটিংগুলো সকালে না দেখতে পারলেও সারা দিনের মধ্যে দেখি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে পাঠাই। টিআইবি রিপোর্ট শুধু পেপার কাটিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাত্র ৬ হাজার টাকা পান। ভবিষ্যতে আপনারা তদন্তের টাকা বৃদ্ধি করবেন কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের এই আর্থিক সংকট আছে। আশা করি, সামনের দিনে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও পুলিশি টহলের ক্ষেত্রে যেন বরাদ্দ পায়, সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করব। আইনে রয়েছে পুলিশের কেউ ৬০ দিনের অধিক পলাতক থাকলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে, সেই উদ্যোগ নিবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এগুলো তদন্তের পর রিপোর্ট করে কর্মকর্তাভেদে প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হয়। সেগুলো চালু রয়েছে। যাদের কথা আপনারা (সাংবাদিক) ইশারা-ইঙ্গিতে বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। সেগুলো চলমান। কারোটা হয়তো সমাপ্তির পর্যায়ে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আইসিটি আদালতে মামলা আছে। সেই মামলায় আইনমাফিক বিচারের সম্মুখীন হবে। পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ভাবমূর্তি আপনারা (সাংবাদিক) ও জনগণ বিচার করবে। পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে রূপান্তর করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়। নৈতিকভাবে পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করা দরকার যেন পুলিশ বাহিনী জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী, আইনের শাসন অনুযায়ী কাজ করে। ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার। বাস্তবে সেটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশব্যাপী সাড়া জাগানো তিন ঘটনায় বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশের ১৫ সদস্যকে পুরস্কার দিয়েছেন। প্রত্যেককে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং নৌ-পুলিশের তিন জনকে আইজি ব্যাজ দেওয়া হয়। এই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাসী। এ নীতির আলোকে পুলিশের নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি এবং তাদের আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য যথাযথ তিরস্কারের সংস্কৃতি পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের কৃতিত্বের মধ্যে ছিল পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ-পুলিশের বীরত্বপূর্ণ অভিযান এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস কিশোরী হত্যা মামলার সফল তদন্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত