স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার চালু হলে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভের পানির ওপর নির্ভরতা কমে পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজধানীতে ভূগর্ভস্থ’ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় বিকল্প ও টেকসই পানির উৎস নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীর পানি শোধনের এই বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক ও আংশিক পানি সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে রাজধানীতে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ সময় তিনি প্রকল্পের পানির উৎস লাইন এলাকা ও শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুয়েজ ভেউলিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজসম্পন্ন হলে আরও ৫০ কোটি লিটার পানি যুক্ত হবে। দুই ধাপ মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক পানি সরবরাহ সক্ষমতা দাঁড়াবে ১০০ কোটি লিটারে। রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।