মিয়ানমারের ভেতরে কোণঠাসা বিদ্রোহীরা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ এএম

দুই বছরেরও বেশি আগে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদ্রোহীদের একটি জোট দেশজুড়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিল এবং জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিজয় লাভ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামরিক বাহিনীর জোরপূর্বক বাধ্যতামূলক নিয়োগনীতি গৃহযুদ্ধে জান্তার অবস্থান শক্তিশালী করেছে; মিয়ানমারের ভেতরে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন বিদ্রোহীরা। এক সময় আক্রমণাত্মক অবস্থানে থাকা প্রতিরোধযোদ্ধারা এখন মিয়ানমারের অধিকাংশ এলাকায় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

গৃহযুদ্ধ মিয়ানমারকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সামরিক বাহিনী এখনো দেশের অর্ধেকেরও কম এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা পুনর্দখল করেছে এবং উত্তরে মান্দালয় থেকে মিচকিনা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিয়ন্ত্রণও পুনরুদ্ধার করেছে। কাচিন, চিন ও কারেন রাজ্যসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাজার হাজার সৈন্য অগ্রসর হচ্ছে।

বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে বিবিসি কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই মিয়ানমারে প্রবেশ করেছিল। বিবিসির প্রতিবেদক সেখানে ১০ দিন ছিলেন এবং বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরতে তিনি বাগো এবং কারেন রাজ্যের হাসপাতাল ও সম্মুখসারির অবস্থানে ভ্রমণ করেছি। গণপ্রতিরক্ষা বাহিনীর এক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার কো কাউং বিবিসিকে বলেন, ২০২৪ সালে সামরিক বাহিনী আইনপ্রয়োগের পর অন্তত দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবা দিতে হচ্ছে এটাই সবচেয়ে বেশি পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। এর ফলে সামরিক বাহিনী সীমাহীন জনবল পেয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুবিধা থাকলেও সম্পদ খুব সীমিত। অর্থের অভাবে আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে পারি না এবং নতুন যোদ্ধাও সামরিক বাহিনীর মতো সহজে নিয়োগ দিতে পারি না।’ কো কাউং ও তার যোদ্ধারা দুই বছর আগে কারেন রাজ্যের হপাপুন শহর এবং একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিলেও, তা আবার তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের কমান্ডার দা ওয়াও স্বীকার করেন, জোরপূর্বক নিয়োগপ্রাপ্ত সৈন্যরা তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। সাবেক এই রাজনৈতিক কর্মী সাড়ে চার বছর সরকারি কারাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, জান্তা বাহিনীর অনেক সদস্য অনিচ্ছুক হলেও তারা যুদ্ধক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে উঠছে, কারণ তারা এখন নির্দেশ মেনে চলতে আরও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে শুধু বাধ্যতামূলক নিয়োগই সমস্যা নয়। দা ওয়াও বলেন, জান্তা বাহিনীর কৌশলও বদলে গেছে। রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করার পর তারা আরও বেশি বিমানশক্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, এখন আমরা একসঙ্গে দুটি যুদ্ধবিমান দেখতে পাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত