বিশ্ব কাঁপানো বিশ্বকাপ

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৩:০১ এএম

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ চলেই এলো। এতদিন টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, পার্কিং ফি, তীব্র গরম কিংবা পানির বোতল নিয়ে কড়াকড়ি নিয়ে অনেক কথাই শুনেছেন পত্রিকার পাতায়। এমনকি আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপড়েনের জেরে এবার বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে তীব্র জলঘোলা আর সংশয় তৈরি হয়েছিল, কিংবা ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে অনায়াস যাতায়াত তা নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। কিন্তু সব জল্পনা-কালের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। এবার মাঠের বাইরের সব রাজনৈতিক ও অ-ফুটবলীয় বিতর্ক ছাপিয়ে লাইমলাইটে চলে আসছে শুধুই ফুটবল।

বিশ্বকাপ শুরুর এই মাত্র কয়েক দিন আগের সময়টাতে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয়েছে একটা দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর পথ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া কিংবা কাতারের মহাযজ্ঞ শুরুর আগেও গল্পটা ঠিক একই রকম ছিল। মজার ব্যাপার হলো প্রতিবারই টুর্নামেন্ট শেষে যখন পেছন ফিরে তাকানো হয়, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে কেবল নির্দিষ্ট কিছু দল আর খেলোয়াড়দের অবিশ্বাস্য সব কীর্তি।

চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের কথা উঠলেই যেমন লিওনেল মেসি আর আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের ছবি সবার আগে মনে পড়ে; ২০১৮ সালে রাশিয়ার মাটিতে কিলিয়ান এমবাপ্পের সেই কিশোর বয়সের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স যেভাবে পুরো আলো কেড়ে নিয়েছিল; কিংবা ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে জার্মানির সেই ৭-১ গোলের তাণ্ডব যা আজ ‘মিনেইরাজো’ (বেলো হরিজোন্তের ট্র্যাজেডি) নামে পরিচিত এবং ২০১০ সালে স্পেনের প্রথমবার বিশ্বজয়ের মুহূর্তগুলোই টিকে আছে একেকটি বিশ্বকাপের চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে।

কোনো কিছুই একটি বিশ্বকাপকে সেভাবে রাঙিয়ে তুলতে পারে না, যেভাবে পারেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের নেইমার, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, স্পেনের লামিন ইয়ামাল, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপের জাদু ছড়িয়ে পড়ে ঠিক এই মুহূর্তগুলোতেই, যা এই টুর্নামেন্টকে পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াযজ্ঞের মর্যাদা দিয়েছে। এটি যেকোনো দেশকে এমন এক বৈশ্বিক মঞ্চ এনে দেয়, যা অন্য কোনো কিছুর পক্ষে সম্ভব নয়।

১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়ার পর সবাই চিনেছিল ক্যামেরুন দেশটা কোথায়। একইভাবে ২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেনেগাল নিজেদের এবং আফ্রিকান ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এবার কি কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান কিংবা উজবেকিস্তান তাদের প্রথম বিশ্বকাপেই নিজেদের দেশের ফুটবল ইতিহাসে এমন কোনো অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিতে পারবে?

আর মাঠের ভেতরের এই লড়াই যখন চলে, তখন মাঠের বাইরে তৈরি হয় অন্য এক রূপকথা। যেমন আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ। নিজেদের দেশ বিশ্বকাপে না খেললেও, ১৮ কোটির এই দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা যেভাবে আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের সমর্থনে আবেগের জোয়ারে ভেসে যায়, তা আজ পুরো বিশ্বের কাছে এক পরম বিস্ময়। বাড়ির ছাদে প্রিয় দলের বিশাল পতাকা ওড়ানো, গভীর রাতে খেলা দেখতে হাজারো মানুষের এক হওয়া বিশ্বকাপের এই যে সর্বজনীন আবেগ, তা তো বাংলাদেশের এই কোটি ভক্তের উন্মাদনা ছাড়া ভাবাই যায় না! কোনো সীমানা বা ভূ-রাজনীতি  দিয়ে ফুটবলকে যে আটকে রাখা যায় না, বাংলাদেশ প্রতি চার বছর পর পর তা পুরো পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেয়।

এবার আসা যাক কারা বিশ্বকাপ জিততে পারে : এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আলোচনা এর দলসংখ্যা এবং সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার ফরম্যাট নিয়ে। প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী ৩২ দলের বৃত্ত ভেঙে টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ৪৮টি দল। ম্যাচসংখ্যা এক লাফে ৬৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ! এই বিশাল পরিবর্তনের ফলে মাঠের বল গড়ানোর আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেছে গাণিতিক ও কৌশলগত চুলচেরা বিশ্লেষণ। ব্রিটেনের বিখ্যাত ‘দ্য গার্ডিয়ান’ তাদের একটি বিশেষ ইন্টারেক্টিভ ব্র্যাকেটলজি’ প্রেডিকশন টুল প্রকাশ করেছে। এই ব্র্যাকেটের জটিল সমীকরণ, নতুন ফরম্যাটের অন্তহীন মারপ্যাঁচ এবং পরাশক্তিদের সাম্প্রতিক শক্তিমত্তা বিশ্লেষণ করলে ২০২৬ বিশ্বকাপের যে রোডম্যাপ চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তা এককথায় রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়।

এবারের বিশ্বকাপের মূল চরিত্রই বদলে গেছে এর গ্রুপ পর্বের নতুন বিন্যাসে। শুরুতে ফিফা ৩টি করে দল নিয়ে ১৬টি গ্রুপের চিন্তা করলেও, শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ৪টি দল করেই মোট ১২টি গ্রুপ চূড়ান্ত করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি চলে যাবে নতুন যুক্ত হওয়া ‘রাউন্ড অফ ৩২’ পর্বে। অর্থাৎ, ২৪টি দল সরাসরি টিকিট পাচ্ছে। জটিলতার আসল গোলকধাঁধা তৈরি হয়েছে বাকি আটটি স্থান নিয়ে। ১২টি গ্রুপের মধ্যে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সেরা ‘৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী’ দল সুযোগ পাবে নকআউটে।

আপাতদৃষ্টিতে দল বাড়ায় নকআউটের পথ সহজ মনে হলেও, এটি আসলে টুর্নামেন্টকে আরও বেশি অনিশ্চিত, কঠিন এবং স্নায়ুক্ষয়ী করে তুলেছে। একে বলা হচ্ছে ‘হোটেল রুমের মানসিক যুদ্ধ’। অনেক গ্রুপে দেখা যাবে, নিজেদের ৩টি ম্যাচ শেষ করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে কোনো দল হয়তো হোটেল রুমে আরও ৩ থেকে ৪ দিন চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে আছে অন্য গ্রুপের ফলাফলের জন্য। নিজেরা ভালো খেলেও ভাগ্য ছেড়ে দিতে হবে অন্যের ওপর। মাত্র ১টি গোল হজম করা বা একটি গোল কম করার খেসারত দিয়ে গোল ব্যবধানের সামান্য ভগ্নাংশে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে অনেক প্রতিষ্ঠিত দলকে।

কৌশলগতভাবে কোচদের এখন শুধু ম্যাচ জিতলেই হবে না, রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার চিরচেনা মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কারণ সেরা তিনে থাকা দলগুলোর মধ্যে যারা বেশি গোল করতে পারবে, তারাই পরের রাউন্ডের টিকিট কাটবে। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো রূপ নেবে এক একটি গোলবন্যার লড়াইয়ে।

গ্রুপগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, স্বাগতিক তিন দেশের মধ্যে মেক্সিকো পড়েছে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে (গ্রুপ এ), যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো গতিশীল দল তাদের কঠিন পরীক্ষা নেবে। অন্যদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা (গ্রুপ জে) এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (গ্রুপ সি) তুলনামূলক সহজ গ্রুপে থাকলেও নকআউটের টিকিট পেতে তাদের প্রতিটি ম্যাচেই শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে।

গার্ডিয়ানের ব্র্যাকেটের গাণিতিক নকশা অনুযায়ী, এবার নকআউট রাউন্ড শুরু হচ্ছে এক ধাপ আগে থেকে। আগে যেখানে গ্রুপ পর্বের পর সরাসরি শেষ ১৬ হতো, এবার হবে শেষ ৩২। এই রাউন্ডটি মূলত ছোট দলগুলোর জন্য রূপকথা লেখার এবং বড় দলগুলোর জন্য হোঁচট খাওয়ার এক বিশাল ফাঁদ।

যদি বড় দলগুলো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল গাণিতিক ছক মেনে নকআউটে প্রবেশ করে, তবে রাউন্ড অফ ৩২-এই আমরা বেশ কিছু হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ দেখতে পাব। যেমন ইংল্যান্ড যদি গ্রুপ ‘এল’-এ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ক্রোয়েশিয়া রানার্সআপ হয়, তবে অন্যদিকের সমীকরণে রাউন্ড অফ ৩২-এই মুখোমুখি হয়ে যেতে পারে আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়াযা হবে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের এক চরম প্রতিশোধের মঞ্চ।

এই রাউন্ডের স্নায়ুচাপ সামলে যারা রাউন্ড অফ-এ পা রাখবে, সেখানে মহাদেশীয় লড়াইগুলো আরও তীব্র হবে। ইউরোপের নিখুঁত ট্যাকটিকাল ফুটবলের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে লাতিন আমেরিকার গতি ও জাদুকরী ফুটবলকে। স্কোয়াড ডেথ বা দলের বেঞ্চ স্ট্রেন্থ যাদের শক্তিশালী, তারাই এই তীব্র গরম এবং দীর্ঘ টুর্নামেন্টের ক্লান্তি কাটিয়ে টিকে থাকবে। শক্তির এই ফিল্টারিং শেষে কোয়ার্টার ফাইনালে যে ৮টি দল ওঠার সবচেয়ে বড় দাবিদার, তারা হলোব্রাজিল, মরক্কো, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনা।

যদি ব্র্যাকেটের এই সমীকরণ মিলে যায়, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বটি হবে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায়। ব্রাজিল বনাম মরক্কো : কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো তাদের নিখুঁত রক্ষণাত্মক ব্লক এবং কাউন্টার-অ্যাটাক দিয়ে এবারও চমক দেখাতে চাইবে। তবে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগোদের উইংয়ের গতি এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য মরক্কোর জমাট ডিফেন্স ভাঙার মূল চাবিকাঠি হবে।

জার্মানি বনাম স্পেন : ইউরোপীয় ফুটবলের দুই মডার্ন জায়ান্ট। স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডের পজিশনাল ফুটবল এবং পাসিং গেমের বিপরীতে জার্মানি খেলবে তাদের ঐতিহ্যবাহী ডাইরেক্ট ও হাই-ফিজিক্যাল ফুটবল। মাঝমাঠের দখলের ওপর নির্ভর করবে এই ম্যাচের ভাগ্য।

ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ড : কাতার বিশ্বকাপের সেই ক্লাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যামদের তারকাসমৃদ্ধ দল বনাম কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। ফ্রান্সের উইঙ্গারদের গতি এবং বড় ম্যাচ একাই জিতিয়ে দেওয়ার অতিমানবীয় ক্ষমতাই এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস : কাতার বিশ্বকাপের সেই চরম উত্তেজনা, ফাউল এবং পেনাল্টি শুট-আউটের নাটকীয় ম্যাচটিকে ভুলতে পেরেছে? ডাচদের লড়াকু মানসিকতার বিরুদ্ধে লিওনেল মেসির জাদুকরী পাসিং এবং আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হবে দেখার মতো।

কোয়ার্টার ফাইনালের এই অগ্নিপরীক্ষা শেষে সেমিফাইনালের মঞ্চটি রূপ নেবে বিশ্ব ফুটবলের দুটি সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক দ্বৈরথে:

সেমিফাইনাল ১: ব্রাজিল বনাম জার্মানি (২০১৪ সালের ঘরের মাঠে সেই ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক ক্ষতের প্রতিশোধ নেওয়ার এবং জার্মানির ভূত তাড়ানোর মঞ্চ)। সেমিফাইনাল ২: আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স (কাতার বিশ্বকাপের সেই সর্বকালের সেরা ফাইনালের একদম পারফেক্ট রি-ম্যাচ)।

এই দুটি সেমিফাইনাল থেকে ফুটবলপ্রেমীরা মূলত তিনটি ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর ফাইনাল সমীকরণ দেখতে পারেন, যা নির্ধারণ করবে কে হবে ২০২৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন :

সমীকরণ ১ : ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স (চ্যাম্পিয়ন : ব্রাজিল)

সমীকরণ ২ : জার্মানি বনাম আর্জেন্টিনা (চ্যাম্পিয়ন : আর্জেন্টিনা)

সমীকরণ ৩ : ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা (সুপার ক্লাসিকো)

যদি মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে দুই লাতিন পরাশক্তি তাদের ইউরোপীয় প্রতিপক্ষদের সেমিফাইনালে ধুলোবালি খাইয়ে ফাইনালে ওঠে, তবে তৈরি হবে ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ও পরাবাস্তব দৃশ্যপট বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের এক শতাব্দীর ইতিহাসে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নকআউটে মুখোমুখি হলেও, ফাইনালের মঞ্চে কখনো তাদের দেখা হয়নি। তবে এই ফাইনালটি মোটেও সুন্দর বা নান্দনিক ফুটবল হবে না; এটি হবে লাতিন রক্তের তীব্র গরম, মাঠের ফাউল, ট্যাকল, কার্ড এবং গ্যালারির গগনবিদারী চিৎকারের এক যুদ্ধক্ষেত্র।

হয়তো এসব হিসাব-নিকাশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আফ্রিকার কোনো দেশ বা ইউরোপের কোনো আন্ডারডগ দল তৈরি করবে নতুন কোনো রূপকথা। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলপ্রেমীদের এমন এক অভিজ্ঞতা দিতে যাচ্ছে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।

এই বিশ্বকাপে হয়তো নতুন নতুন তারকার উদয় হবে, পুরনো নক্ষত্ররা (রোনালদো, মেসি, লুকা মদ্রিচ) শেষবারের মতো বিদায় জানাবেন এই বিশ্বমঞ্চ থেকে, আর পৃথিবীর আনাচে-কানাচে কোটি কোটি শিশু পেয়ে যাবে তাদের নতুন নতুন হিরো যাদের নাম হয়তো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তারা কখনো শোনেইনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত