বিদ্যুতের বাড়তি বিল দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা। রিচার্জ করলে ২০০ ডিজিটের একটি কোড আসছে। মিটারে ২০০ বার বাটন চাপার পরই বিদ্যুৎ আসছে। মাঝপথে কেউ ভুল করলে নতুন করে আবার চাপতে হচ্ছে। সব বিতরণ কোম্পানির প্রিপেইড গ্রাহকই এই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সূত্র বলছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পর প্রতিটি সø্যাবে পৃথকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রত্যেক সø্যাবের জন্য ২০টি করে ডিজিট রয়েছে। সাধারণ সময়ে ২০টি ডিজিট থাকে। বিদ্যুতের দাম যতবারই বৃদ্ধি পাবে, ততবারই একইভাবে ২০০ ডিজিটের কোড নম্বর আসবে।
এই ভোগান্তি কমাতে কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন বিতরণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে গ্রাহক একবার যদি ধৈর্য ধরে মিটারে ২০০ ডিজিট প্রবেশ করান, তাহলে পরের বার থেকে ২০ ডিজিটই পাবেন। সেটি চাপলেই মিটারে বিদ্যুৎ আসবে।
অগ্রিম বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রিপেইড মিটারের ব্যবস্থা করেছে। সারা দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। তিন ধরনের প্রিপেইড মিটার রয়েছে। একটিতে কার্ড নিয়ে নির্দিষ্ট ভে-রের কাছে গিয়ে মিটার রিচার্জ করতে হয়। এরপর কার্ডটি মিটারে প্রবেশ করালে রিচার্জ করা অর্থ কার্ড থেকে মিটারে যুক্ত হয়। দ্বিতীয় ধরনের মিটারে রিচার্জ করলে একটি কোড নম্বর আসে, যা মিটারে বাটন চাপলে মিটারে টাকা যুক্ত হয়। তৃতীয়টি হলো স্মার্ট প্রিপেইড মিটার। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট মিটার নম্বরে রিচার্জ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ মিটারে যোগ হয়।
ফজলুর রহমান নামের ডিপিডিসির একজন গ্রাহক জানান, তিনি রবিবার সকালে বিল দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। মিটার রিচার্জ করার পর ২০০ ডিজিটের কোড দেখে ডিপিডিসির তাৎক্ষণিক সেবাকেন্দ্রের হটলাইন নম্বরে ফোন দিলেও কোনো সহায়তা পাননি। পরে বিষয়টি ডিপিডিসির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাকে জানান। তিনি ধৈর্য ধরে বাটন চাপার পরামর্শ দেন। না পারলে ডিপিডিসির কোনো কর্মচারীকে পাঠিয়ে কাজটি করানোর কথাও জানান।
জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) পরিচালক (আইসিটি) রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পর এমন সমস্যা হয়। বিদ্যুতের দাম যেহেতু সø্যাব অনুযায়ী বৃদ্ধি পায়, তাই মিটারে প্রত্যেকটি সø্যাবের দাম ইনপুট দিতে হয়। গ্রাহক ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির পর এমনটি একবারই হয়। তবে কোনো গ্রাহক না পারলে ডিপিডিসি থেকে তাদের আঙিনায় গিয়ে কাজটি করে দেওয়া হচ্ছে।