যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির দ্বারপ্রান্তে সময় নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ এএম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তারাও সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রবিবারই চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছিলেন (তবে এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি)। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার এতটা কাছাকাছি আসেনি। ইতিমধ্যে চুক্তির একটি খসড়া সম্পর্কে জানা গেছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স রবিবার এই চুক্তির খসড়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চুক্তি চূড়ান্ত করতে সহায়তার জন্য ইরানে পৌঁছেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। প্রতিনিধিদলটি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির একজন উপদেষ্টা বলে ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াসম্পর্কিত সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরইমধ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করাকে এড়িয়ে গেছেন। ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনা চলাকালে ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলার তহবিল ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, এই অর্থের অর্ধেক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরানকে দেওয়া হবে। মেহরের দাবি, এই সমঝোতা স্মারকে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী ও তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের’ কথাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ দিনের এই আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে খসড়া চুক্তির অধীনে তেহরান কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারী দেশের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে প্রধানত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চুক্তি সইয়ের পর আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। সেখানে এই চুক্তি এবং যুদ্ধপরবর্তী আঞ্চলিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক জোট গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার তেহরান জানিয়েছিল, চুক্তির বিষয়ে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে এবং এই কারণে তিনি ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি বাতিল করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের মিত্ররা চুক্তির সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুমোদন করেছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যৌথভাবে এই যুদ্ধ শুরু করেছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, চুক্তির বেশির ভাগ অংশ চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সমস্যা তখন শুরু হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র নতুন দাবি তোলে এবং তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তাসনিম জানিয়েছে, গত দুই মাসে ট্রাম্প এ নিয়ে ৩৮ বার দাবি করেছেন যে চুক্তি আসন্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত