আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক বিরোধে ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামের বড়ুয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেনথ ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কে সুজনের চাচাতো ভাই তেজপ্রিয় বড়ুয়া এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তেজপ্রিয় বড়ুয়া পালিয়ে গেলেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ভাইকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারের সঙ্গে তেজপ্রিয় বড়ুয়ার বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই রাত সাড়ে ১১টার দিকে বসতঘরে ঢুকে মা, মেয়ে ও শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় তেজপ্রিয়।

প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া জানান, রাত ১২টার দিকে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গিয়ে দেখা যায়, ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াস রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর ঘরের ভেতরে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও ঘটনাস্থলেই এনি বড়ুয়া মারা যান।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, চাকরির সুবাদে তিনি চট্টগ্রাম শহরে ছিলেন। রাতে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে দেখেন স্ত্রী ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ। চাচাতো ভাই তেজপ্রিয় বড়ুয়ার সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। তেজপ্রিয় ওই লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে ঘরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে তেজপ্রিয় বড়ুয়ার নাম বলেছেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের হামলায় মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং এক শিশু আহত হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘নিহত মা-মেয়ের শরীরে একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। এ ছাড়া শিশুটির শরীরে জখম থাকলেও সে এখন শঙ্কামুক্ত। তবে এই নৃশংস হত্যাকা- যে বা যারাই করুক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলডছে। যত দ্রুতই সম্ভব এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত