সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জানালেন

সংগীতের শিক্ষক পদ সৃজনে অসম্মতি মন্ত্রিপরিষদের 

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:২২ এএম

সহকারী শিক্ষক (সংগীত) পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে অসম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে গতকাল রবিবার সংসদে এ তথ্য জানান তিনি। অপর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান দুই শিফটের বিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে এক শিফটে রূপান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি জানান।

সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত সর্বমোট ১৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে পৃথক বা স্থায়ী পাবলিক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিসিবিলিটি স্টাডি) প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামোর প্রাপ্যতা, জমির প্রাপ্যতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় উপজেলা, জেলা অথবা আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বতন্ত্র পাবলিক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। বিপরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা প্রদানে বার্ষিক প্রয়োজন প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতিবছর ১৫৬ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিশালসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। অনিষ্পন্ন ৪৪ হাজার আবেদন দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গত ২০ বছরের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় অরাজকতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত