মুসলমানের প্রতি মুসলমানের ছয় অধিকার

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে সুন্দর ও সুদৃঢ় করেছে। একজন মুসলমান যেন অন্য মুসলমানের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে, একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখে, সে জন্য ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক মুসলমানের ওপর মুসলমানের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন- এক. সাক্ষাৎ হলে সালাম দেবে। দুই. দাওয়াত দিলে গ্রহণ করবে। তিন. পরামর্শ চাইলে সৎ পরামর্শ দেবে। চার. হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে তার জন্য রহমতের দোয়া করবে। পাঁচ. অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে। ছয়. মৃত্যুবরণ করলে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করবে। (সহিহ মুসলিম)

এই ছয়টি অধিকারের প্রথমটি হলো সালামের প্রসার। সালাম হলো শান্তি, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা। একজন মুসলমান যখন অন্য মুসলমানকে সালাম দেয়, তখন তাদের মধ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়।

দ্বিতীয় অধিকার হলো দাওয়াত গ্রহণ করা। কোনো মুসলমান আন্তরিকতার সঙ্গে দাওয়াত করলে যথাসম্ভব তা গ্রহণ করা উচিত। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হয়।

তৃতীয় অধিকার হলো সৎ পরামর্শ দেওয়া। একজন মুসলমান কখনো তার ভাইকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে না। বরং সে তার কল্যাণ কামনা করে এবং প্রয়োজন হলে সত্য ও কল্যাণকর পরামর্শ প্রদান করে।

চতুর্থ অধিকার হলো হাঁচির পর দোয়া করা। কেউ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তার জন্য ‘এরহামুকাল্লাহ’ বলা সুন্নত। এটি ছোট একটি আমল হলেও মুসলমানদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও দোয়ার সম্পর্ককে গভীর করে।

পঞ্চম অধিকার হলো অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজখবর নেওয়া। রোগীর সেবা করা ও তাকে সান্ত্বনা দেওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এতে অসুস্থ ব্যক্তি মানসিক শক্তি পায় এবং তার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।

ষষ্ঠ অধিকার হলো মৃত্যুর পর জানাজায় অংশগ্রহণ করা। এটি মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি জীবিতদের মৃত্যুর বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়।

লেখক : ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত