জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সংবাদমাধ্যম বিবেকের আলোকে সত্য তুলে ধরবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। আমাদের যুবসমাজ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করে, সেটি আমরা অর্জন করতে পারব। এখানে যারা ক্যামেরা ধরে আছেন, আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের মধ্যে তেমন কোনো বয়স্ক মানুষ নেই। আমি একজন যুবক, আর আপনারা আরও বেশি যুবক। আমরা আপনাদের স্বপ্নের কথা বলছি, প্রত্যাশার কথা বলছি।
তিনি বলেন, এ সমাজ আপনাদের, শুধু আমার নয়—সবার। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যেতে চাই। আবার সমাজের প্রয়োজনে যা উত্তম, যা ভালো, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমরা একসঙ্গে লড়াই করতে চাই, এই সমাজকে মুক্ত করতে চাই। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ, একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে গরিব আদালতে গেলে বিচার পাবে, ধনীও আদালতে গেলে বিচার পাবে। বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না—সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারী এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক রুকন সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা অঞ্চল দক্ষিণ জামায়াতের পরিচালক ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। জেলা জামায়াতের আমির আ জ ম রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজির সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সিরাজুল আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমির এএসএম বায়েজিদ, জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রিফাত হোসেন প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের একটি বাজেট দেওয়া হয়েছে। ৫০–৬০টি খাতে কর কমানো হয়েছে। কিন্তু বাজারে কোনো নিত্যপণ্যের দাম কি এক টাকাও কমেছে? না। তাহলে কর কমানোর পর দাম কমে না কেন? কারণ, সব জায়গায় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট আবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও আশ্রয় না পেলে কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব টিকতে পারে না। এই আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, যে বাজেটে অনেক কর ছাড় দেওয়া হলো, সেই বাজেটের ফলে যদি জনগণের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন বা স্বস্তি না আসে, তাহলে এর সুবিধা কে পাচ্ছে? আমরা চাই ব্যবসায়ীরাও বাঁচুক, জনগণও বাঁচুক। কিন্তু ব্যবসাও আজ কতিপয় সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি হয়ে গেছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
মুন্সীগঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ জেলার নামের মধ্যেই একটি পবিত্রতার ভাব রয়েছে। এখানে বহু আল্লাহভীরু ও নেককার মানুষের বসবাস ছিল। নামের খাতিরে আমি বিশ্বাস করতে চাই, মুন্সীগঞ্জে কোনো চাঁদাবাজি হয় না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই নামের সম্মানও রক্ষা করা যায়নি। এখানে চাঁদাবাজি রয়েছে। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সারা দেশে একই চিত্র।
তিনি আরও বলেন, কোনো সময় যদি এমন হয় যে সংসদ আর জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না, তাহলে সেই সংসদে এক সেকেন্ডও থাকার প্রয়োজন নেই। সংসদ জনগণের জন্য। জনগণের প্রয়োজনে কাজ না করলে সেখানে থাকারও প্রয়োজন নেই।
তবে আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই। কিন্তু কত দিন? অনন্তকাল? বছরের পর বছর? সরকার যে ধারা শুরু করেছে, সেখানে প্রথমে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে। আমি দ্বিতীয় কোনো দাবি করছি না—আগে চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে মানুষের জীবনে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ শান্তি ফিরে আসবে। এরপর অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলা যাবে। আগে এ সমস্যার সমাধানে হাত দিন। কারা এই দেশে চাঁদাবাজি করে, তা সবার কাছেই স্পষ্ট।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এক ধরনের রাজনৈতিক কুটির চোর তৈরি হয়েছে। আজই আমি নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলাম। শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের কষ্টের কথা বলেছেন। একজন শুধু বললেন, তারা খুব কষ্টে আছেন, স্বস্তিতে নেই। এ অবস্থা থেকে তাঁদের উদ্ধার করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে দল তার কর্মীদের সামাজিক অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে পারে না, সেই দলের দেশ শাসনের কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না। শেষ পর্যন্ত বিচার জনগণের হাতেই থাকবে।