তৃণমূলের ৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১২:১৮ এএম

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দলটির বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষ থেকে তহবিলের উৎস অনুসন্ধানের দাবির মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলটির অভ্যন্তরে অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা বাইরে লেনদেন করা যাবে না, তবে নতুন অর্থ জমা হতে পারবে।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের এবং অ্যাকাউন্টগুলোর বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। অভিযোগে বিধায়করা হিসাবগুলোতে জমা হওয়া অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এসব হিসাবের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের তদন্ত চান। অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি অনুযায়ী, তারা জানতে চেয়েছেন অর্থগুলো বৈধ উৎস থেকে এসেছে নাকি অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে। এর মধ্যে কথিত ‘কাট-মানি’ আদায়, সরকারি অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন কেলেঙ্কারির অর্থের বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহভাজন অবৈধ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়ে থাকতে পারে। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এক জ্যেষ্ঠ বিধায়ক জানিয়েছেন, তারা পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে জেনেছেন, তবে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, তিনটি হিসাব জব্দ হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন এবং সন্ধ্যার মধ্যে বিস্তারিত জানা যাবে। এর কয়েকদিন আগে তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা অরূপ বিশ্বাস ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে হিসাবগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানান। তার দাবি ছিল, নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৫০০ কোটির বেশি রুপির দলীয় আমানত পরিচালনা করা উচিত হবে না।

উল্লেখ্য, আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরসংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তও একই সাইবার ক্রাইম থানা করছে। মমতার অনুগত বিধায়ক কুণাল ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, অরূপ বিশ্বাস এখন আর কোষাধ্যক্ষ পদে নেই এবং আর্থিক বিষয়ে দলের পক্ষে কথা বলার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি বলেন, যেকোনো বিভ্রান্তি দূর করতে স্পষ্টভাবে বলা দরকার যে, অরূপ বিশ্বাস একসময় দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তবে গত ৫ জুনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন থেকে তিনিই এই দায়িত্ব পালন করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত