রাজপথে সরব বিএনপি ও জামায়াত

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাঠে না নামলেও সরব ছিলেন সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটসঙ্গী বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়াগায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে দলগুলো। রাজধানীর নয়াপল্টন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শাহবাগ, ধানম-ি, মিরপুর, কারাইল, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন জয়াগায় কর্মসূচি পালন করেছে দলগুলো।

গতকাল মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন দলটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড় ঘুরে ফের নয়াপল্টনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। দলটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সে সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচন কেড়ে নিয়ে দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিলেন। আবার গুমের রাজত্ব ফিরে আসবে, জনগণ সেটা সমর্থন দেবে? না। একটা মুক্তিযুদ্ধে ২ লাখ মা-বোন নির্যাতিত হলেন, সেই জাতিকে আপনারা গোলাম বানাবেন? দিল্লির কৃতদাস বানাবেন? এটা হবে না। এ দেশের জনগণ হতে দেবে না।

রিজভী বলেন, বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন যৌথভাবে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। মিছিলের উদ্দেশ্য হলো ফ্যাসিবাদের উঁকি দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা। যারা জনগণের জীবন থেকে সুন্দর ভোর, সূর্যের আলো, স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন এবং মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন নানা কায়দায় তাদের চুরি ও পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা- সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। শেখ হাসিনা যে নির্বাচন কেড়ে নিয়ে দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিলেন, সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বেড়াজাল তৈরির চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন ১৭ বছর দমাতে পারেননি, বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন, র‌্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন, জনির মতো অসংখ্য জাতীয়তাবাদের সৈনিককে হত্যা করেছেন। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ অসংখ্য নেতাকে গুম করেছেন। আবার গুমের রাজত্ব ফিরে আসবে জনগণ সেটাতে সমর্থন দেবে? না। আবার ক্রসফায়ার ফিরে আসবে জনগণ সেটাকে সমর্থন দেবে? না।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিংসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘিœত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সামাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম রিয়াদের নেতৃত্বে মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে শুরু করে টিএসসি হয়ে শাহবাগ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখাও রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

আওয়ামী লীগকে জনগণের রক্তচোষা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি বলেছেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এ দেশের জনগণের রক্তচোষা আওয়ামী লীগকে আর সুযোগ দেওয়া হবে না।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ কথা বলেন। মিছিলটি যাত্রাবাড়ী টনি টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহীদ ফারুক সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশের জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো রাজপথে শক্ত ভূমিকা বজায় রাখবে।’

মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সামাবেশ করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীপাড়ায় গিয়ে শেষ হয়। দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মো.  শহিদুল্লাহ ও শাহ আলম তুহিন।

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে মিছিল বের করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টনের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সে সময় উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানার সাবেক আমির শাহীন আহমেদ খান, থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক। কলাবাগান ও ধানম-ি ৩২সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কাকরাইলে সমাবেশ করেছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত