প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাঠে নামেনি আ.লীগ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ এএম

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ। তার প্রায় দুই বছর পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারে, নাশকতা ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হলেও মাঠে নামেননি দলটির কোনো নেতাকর্মীরা। মিছিল-সমাবেশের মতো কিছু ঘটেনি। এদিকে আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিল ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী, ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েনসহ সারা দেশে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা সমাবেশের চেষ্টা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। এ কারণে গত তিন দিন ধরে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

তিনি বলেন, চেকপোস্ট, মোবাইল ও ফুট প্যাট্রল বৃদ্ধির পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়। সম্ভাব্য সমাবেশ বা মিছিল ঠেকাতে মেস, হোটেলসহ বিভিন্ন সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।

ঢাকার বাইরে থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ওই সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু ব্যক্তি ঢাকায় আসার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে রাজধানীর প্রবেশমুখ, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে কেউ রাজধানীতে প্রবেশ করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ঢাকার ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, শেরেবাংলা নগর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হলো। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৪৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। মঙ্গলবার রাজধানীর ১২টি থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা থানা দুজন, শাহবাগ একজন, ধানমন্ডি ১৩, হাজারীবাগ থেকে দুজন, বংশাল থেকে একজন, সূত্রাপুর থেকে একজন, পল্টন থেকে একজন, তেজগাঁও থেকে দুজন, শিল্পাঞ্চল থেকে একজন, মিরপুর তিনজন, পল্লবী একজন, কাফরুল একজন, বংশাল একজন, খিলক্ষেত দুজন, কদমতলী একজন, মোহাম্মদপুর আটজন, মিরপুর একজন এবং তুরাগ থানা পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে বলা হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। ‎পুলিশ জানায়, সাখাওয়াত হোসেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশ করে ভাঙা ভবনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সেখানে প্রবেশের সন্তোষজনক কারণ জানাতে পারেননি। তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন। ‎

‎ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ধানম-ি ৩২ নম্বরে ওই ব্যক্তি ছবি ভিডিও করছিলেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ জন্য আটক করে। বর্তমানে আটক ব্যক্তি থানায় রয়েছেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি।

গোপালগঞ্জে গ্রেপ্তার ৭

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের গোপালগঞ্জ পৌর শাখার নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছেনং। গতকাল মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দিঘারকূল গ্রামে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদসহ কয়েকজন ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক খান রিপনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী মিছিল করছেন। পরে তারা কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো.  হাবিবুল্লাহ জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ফোর্স পাঠালেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় জানা যায়নি।

চট্টগ্রামে কঠোর অবস্থানে ছিল বিএনপি

গতকাল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও রাস্তায় নামেননি দলটির নেতাকর্মীরা। তবে তাদের যে কোনো ধরনের তৎপরতা ঠেকাতে দিনভর কঠোর অবস্থানে ছিলেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নগরীর জিইসি মোড়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সমাবেশে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল হক টুটুলহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। নগর বিএনপির সদস্য সচিব মুহাম্মদ নাজিমুর রহমানের নেতৃত্বে সকাল থেকেই নগরীর কাজির দেউড়ি মোড়ে অবস্থান নেন দলের নেতাকর্মীরা। সেখানে সমাবেশে নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেলসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

চন্দনাইশে দুই যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় আওয়ামী যুবলীগের দুই নেতাসহ বিভিন্ন মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বরকল ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মো. ওয়াসিম উদ্দিন ও দোহাজারী পৌরসভা যুবলীগের সদস্য মাঈন উদ্দিন টিপু। এ ছাড়া নিয়মিত ও সিআর পরোয়ানা মূলে মো. আরাফাত ও মোছাম্মৎ নুর জাহান বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাঙ্গামাটিতে ১৬ জন গ্রেপ্তার

রাঙ্গামাটি শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দিবাগত রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাঙ্গামাটি জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কবির, নুরুল হক, চম্পক দাশ, মো. নিজাম উদ্দীন, মো. ইলিয়াছ, মো. ইসমাইল, মো. জসিম, মো. নয়ন, মো. তারিকুল ইসলাম, মো. রাসেল, শাহাদত হোসেন, রাম প্রসাদ শীল, জাহিদুল ইসলাম, মো. সাইফুল ইসলাম, দুর্জয় কান্তি দে ও হাফিজুর রহমান। পুলিশ জানায়, বিভিন্ন মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আ.লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিল কর্মী-স্বজনরা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন নেতাকর্মী ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিজু তার বাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাকে আটক করতে যায়, তখন নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে ছিনিয়ে নেন। গতকাল পৌর এলাকার আড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে যাওয়ার পর বিজু পালিয়ে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত