খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজি

সড়কে মাছ ফেলে জেলেদের প্রতিবাদ

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০২:১৫ এএম

চট্টগ্রাম নগরের রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাটে কথিত ‘অবৈধ খাস কালেকশন’ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা। গতকাল বুধবার দুপুরে ঘাটসংলগ্ন সড়কে মাছ, বরফ ও গ্যাস সিলিন্ডার রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তারা। এ সময় বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শতাধিক জেলে ও তাদের পরিবার কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

জেলেদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে মাছ নামানো, নৌকা ভেড়ানো এবং জাল, রশি, বরফ, গ্যাস সিলিন্ডারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার ওপর অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হয়। ‘খাস কালেকশন’-এর নামে এসব অর্থ আদায়ের কারণে জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রানী রাসমনি জেলে ইলিশ ঘাট দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাট হওয়া সত্ত্বেও এখানকার জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে নানা হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন মাছ নিয়ে ঘাটে আসার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। ফলে অনেক জেলেকে প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

জেলে নেতারা অভিযোগ করেন, শুধু জেলেরাই নন, ঘাটে কর্মরত শ্রমিক, নৌকার মাঝি, মাছ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের থেকেও চাঁদা আদায় করা হয়। তারা অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একাধিক জেলে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান চাঁদাবাজির কারণে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কাক্সিক্ষত প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তারা।

ইলিশ ঘাটের সভাপতি মো. হাসান আলী চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ খাস কালেকশন ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে ঘাটে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এ সময় ঘাটের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ উদ্দিনসহ ঘাটের প্রমুখ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত