খাগড়াছড়িতে পৃথক দুটি গোলাগুলির ঘটনায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দীঘিনালা ও রামগর ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ইউপিডিএফ দাবি করেছে, দুই নেতার একজন নিরাপত্তাবাহিনী ও অন্যজন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির গুলিতে নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, গতকাল সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় সিন্দুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ববিন ত্রিপুরা নিহত হন। এ ঘটনায় মংসানু মারমা ওরফে জীবন নামে একজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার এবং একজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে এ ঘটনায় ইউপিডিএফের সংগঠক অংগ্য মারমা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। তবে আমাদের কর্মীদের ওপর গুলি চালালে ববিন ত্রিপুরা নিহত হন। অন্যজন আহত হয়েছেন।’
অন্যদিকে জেলার দীঘিনালা উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে সুজন চাকমা নামে এক ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার বাবুছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন চাকমা উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সুজন চাকমার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।
দীঘিনালায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রতিপক্ষ জেএসএস (সন্তু লারমা) দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে ইউপিডিএফ সংগঠক অংগ্য মারমা। তবে এ ঘটনায় জেএসএসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।