কুমিল্লার লালমাই উপজেলা

হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর থেকে নাগরিপাড়া পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যাচ্ছে। হাত দিয়েই কার্পেটিং তুলে ফেলা যাচ্ছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ ওঠার পর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

সম্প্রতি গাজী মিনার আলম নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে ৫ মিনিট ৬ সেকেন্ডের একটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়েই উঠে যাচ্ছে। পরে ভিডিওটি বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার দীর্ঘ সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী ২৫ মিলিমিটার পুরুত্বের কার্পেটিং করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এছাড়া কার্পেটিংয়ের আগে সড়কে বিটুমিন (পিচ) ছিটানোর নিয়ম থাকলেও সেটিও যথাযথভাবে করা হয়নি। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা এরশাদ বলেন, ‘এভাবে কাজ করলে তিন মাসও টিকবে না। আমি নিজেই কয়েকটি স্থানে খুঁড়ে দেখেছি, কোথাও ২৫ মিলিমিটার পুরুত্ব পাওয়া যায়নি। এলজিইডির কর্মকর্তারা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে বিষয়টি দেখে গেছেন। এখন কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা গাজী মিনার আলম বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় উন্নয়নকাজ হচ্ছে। অথচ নিম্নমানের কাজ করা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা মানববন্ধনসহ কর্মসূচি দেব।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি বাস্তবায়নকারী গাজী এন্টারপ্রাইজ এর আগেও উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক পরিচয়দানকারী গাজী মনির। তিনি বলেন, ‘সরকার যেভাবে কাজ করতে বলেছে, সেভাবেই করছি। কাজের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এলজিইডি অফিসে যোগাযোগ করুন।’ পরে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি দেখার পর জেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনিও কাজটি পরিদর্শন করেছেন। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পূরণ করতে পারলে কাজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে, অন্যথায় কাজ বন্ধই থাকবে।

এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে উপস্থিত এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রকৌশলগত বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন সড়কের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে করা হয়, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাকে সড়কের ছবি ও তথ্য দিন। খোঁজ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত