ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খবর আসে, শাহবাগ চত্বরে মো. হাসান (৪০) ও এখলাস মিয়া (৬৫) নামে দুই ব্যক্তি অবস্থান করছেন, তাদের কাছে ইয়াবা রয়েছে। সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের একটি টিম শাহবাগে ছুটে যায়। টিমের সদস্যরা সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে দুই ব্যক্তিকে শনাক্তপূর্বক আটক করে।
তাদের শরীর, শার্ট-প্যান্টের পকেট, সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথায়ও ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তিও পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে, তাদের কাছে কোন ধরনের মাদক নেই। বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায় আভিযানিক টিম। পরে দুজনকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এক্স-রে করালে পেটের ভেতর বিশেষ কৌশলে বহন করা ইয়াবার চালান ধরা পড়ে। এরপর পায়ুপথে ১ হাজার ৩২০ পিস ইয়াবা বের করা হয়।
সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, আটক দুজনকে তল্লাশি করে ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছিল না। তারাও ইয়াবা নেই বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। পরে তাদেও হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়। এতে দুজনের পেটের ভেতর ‘কিছু একটা রয়েছে’ এমনটি ধরা পড়ে। তখনো দুজন অস্বীকার করে। পরে চিকিৎসক দুজনকে ওষুধ খেতে দেন, যাতে বাথরুম একেবারে ক্লিয়ার হয়ে যায়। ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তাদের টয়লেটের প্রচ- চাপ আসে। পরে আভিযানিক টিমের উপস্থিতিতে দুজন মলত্যাগ করে। এ সময় মলের সঙ্গে পলিথিন দিয়ে পেঁচানো ছোট ছোট পোটলা বের হয়। সেসব পোটলা খুললে ভেতরে ১৩২০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ দুজনকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা কিনে বিশেষ কায়দায় পেটের ভেতরে বহন করে ঢাকায় নিয়ে আসত। এরপর মলত্যাগের মাধ্যমে অপসারণ করে বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করত।