প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় এবং সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে গুমের ঘটনায় জড়িতের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে আসেন।
গতকাল শুক্রবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ফজলুর রহমান সে সময় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। তবে তিনি এখনো দায়িত্বে আছেন কি না, জানতে চাইলে নিশ্চিত করে কিছু জানাননি নিয়াজ মেহেদী।
তিনি বলেন, গত ১৪ বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকে নিখোঁজ সুখরঞ্জন বালীকে ‘গুমের ঘটনায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে এ পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুখরঞ্জন বালীর অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তার ভাইকে হত্যা করেছে। তখন হেলাল উদ্দিন তাকে ভাইয়ের হত্যাকারী হিসেবে অন্যদের সঙ্গে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামও বলতে বলেন এবং তার বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে গিয়ে ‘মিথ্যা’ সাক্ষ্য দিতে বলেন। কিন্তু তিনি রাজি না হলে তাকে ‘মারধর’ করেন। এর বেশ কিছু দিন পর সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিশাবালী হত্যার ঘটনা জানতে চান। ‘এরপর মাসুদ সাঈদী আমার ভাইয়ের হত্যার প্রকৃত ঘটনা ট্রাইব্যুনালে এসে বলার জন্য অনুরোধ করেন এবং আমি সাঈদী হুজুরের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে রাজি হই।’
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে নিখোঁজ হয়েছিলেন সুখরঞ্জন বালী। পরে ভারতের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান সুখরঞ্জন বালী। পরে তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া যায় বলে জানান, সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।
গত বছরের ২১ আগস্ট গুম, অপহরণ, নির্যাতনসহ প্রায় পাঁচ বছর ভারতে অবৈধভাবে কারাবন্দি ছিলেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।