কোরআন হাদিসের বর্ণনায় মিসর

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

নীলনদের তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ মিসর মানবসভ্যতার অন্যতম সূতিকাগার। মুসলমানদের কাছে এ দেশের গুরুত্ব অনেক। ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, কোরআন, হাদিস এবং নবী-রাসুলদের জীবনঘনিষ্ঠ অসংখ্য ঘটনার সঙ্গে মিসরের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই আরবরা দেশটিকে ভালোবেসে ‘উম্মুদ দুনিয়া’ বা পৃথিবীর মা নামে অভিহিত করে।

পবিত্র কোরআনে মিসর শব্দটি একাধিকবার এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যখন তারা ইউসুফের নিকট প্রবেশ করল, তখন সে তার পিতা-মাতাকে নিজের কাছে স্থান করে দিল এবং বলল, আল্লাহর ইচ্ছায় আপনারা নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করুন।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত ৯৯)

কোরআনের বর্ণনায় মিসরকে নিরাপদ, উর্বর ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোরআনে সরাসরি নাম উল্লেখ হওয়া অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে মিসর অন্যতম।

মিসরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইউসুফ (আ.) ও হজরত মুসা (আ.)-এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মহান আল্লাহর দেওয়া প্রজ্ঞার মাধ্যমে হজরত ইউসুফ (আ.) দেশটির খাদ্য ও অর্থব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দুর্ভিক্ষ থেকে জনগণকে রক্ষা করেন। তার আহ্বানেই হজরত ইয়াকুব (আ.) ও তার পরিবার মিসরে এসে বসবাস শুরু করেন। আবার হজরত মুসা (আ.)-এর দাওয়াত, ফেরাউনের অত্যাচার, সাগর বিভক্ত হয়ে বনি ইসরাইলের মুক্তি লাভ এবং তুর পর্বতে মহান আল্লাহর সঙ্গে তার কথোপকথনের ঘটনাও এই অঞ্চলের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও মিসর সম্পর্কে বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিগগিরই তোমরা মিসর বিজয় করবে। সেখানকার মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করবে। কেননা তাদের প্রতি তোমাদের দায়িত্ব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম) আলেমদের মতে, এই আত্মীয়তার সম্পর্ক হজরত হাজেরা (আ.) এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রী মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত।

২০ হিজরিতে হজরত আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে মিসর বিজিত হলে উত্তর আফ্রিকায় ইসলাম বিস্তারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরে প্রতিষ্ঠিত হয় আফ্রিকার প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত মসজিদে আমর ইবনুল আস। শতাব্দীজুড়ে মিসর ইসলামি জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্রেও পরিণত হয়। ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আল আজহার আজও বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইমাম শাফেয়ি (রহ.), ইমাম লাইস ইবনে সাদ (রহ.), ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি (রহ.) এবং হাফেজ ইবনে হাজার আল আসকালানি (রহ.)-এর মতো অসংখ্য মনীষীর কর্মধারায় সমৃদ্ধ হয়েছে এই ভূখণ্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত