গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখেও অঞ্চলটিতে আগ্রাসন থামাচ্ছে না দখলদার রাষ্ট্রটি। ফলে একদিকে যেমন ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের হতাহতের তালিকাও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার অবরুদ্ধ এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, গাজা সিটির দক্ষিণের সাবরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে; নিহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ গাজার নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সূত্র জানায়, খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আহত অবস্থায় ৯ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, তারা সেখানে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। এ ছাড়া মধ্য খান ইউনিসের জোরাত আল-আক্কাদ এলাকায় ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং তিনজন আহত হন। একই এলাকায় বির জানুন ও আল-শায়ের এলাকায় পথচারীদের লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ড্রোন হামলায় ৩০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে চার শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরেরর পশ্চিমাংশে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর একটি তাঁবু শিবিরের কাছে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়। অন্যদিকে রাফাহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মুয়াবিয়া এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি ইসরাইলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন ওই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

নিহতদের মধ্যে মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি নামে এক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি ফিলিস্তিনিদের সাহায্য দেওয়ায় নিয়োজিত মিসরীয় ত্রাণ কমিটিতে কর্মরত ছিলেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পপুলার রেজিস্ট্যান্স কমিটিজ’ জানিয়েছে, খান ইউনিসে হওয়া দুটি হামলার একটিতে তাদের শীর্ষ নেতা ওয়াহিদ আবু সালেম নিহত হয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, তা মানছে না ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলের দাবি, তাদের বাহিনীর জন্য হুমকিস্বরূপ বা ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলায় জড়িত যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এসব সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরদিকে হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারংবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিযুক্ত গাজাবিষয়ক বিশেষ দূত নিকোলে মøাদেনভ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ীÑ আট মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১ হাজার ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় অংশই বেসামরিক। বিপরীতে ৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি অঞ্চল ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে একটি ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষিত অঞ্চল বলে বর্ণনা করেছেন আর জানিয়েছেন, তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েলের ভয়াবহ স্থল ও বিমান হামলায় এ পর্যন্ত গাজার ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই এখন গাজার উপকূলীয় অঞ্চলের তাঁবুতে বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত