ট্রাম্পের হুমকিতেও অটল স্পেন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শেষ হয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলন। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই সম্মলনের পর্দা নামে গতকাল বুধবার। এই সম্মেলনে ৩২টি মিত্র দেশের শীর্ষ নেতাসহ ন্যাটোর সহযোগী দেশগুলোর নেতারা অংশ নেন। এবাবের সম্মেলনে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হাজার হাজার কোটি ডলারের বিশাল অস্ত্রচুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ ও জোটের আর্থিক অবদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। তবে সম্মেলনে অংশ নিয়ে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প জানান, তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ন্যাটোর অন্য সদস্য দেশগুলোকেও স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের অভিযোগ, স্পেন ন্যাটোর জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা মানতে রাজি হয়নি। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি। তিনি স্পেনকে ন্যাটোর ‘ভয়ানক অংশীদার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশটির সঙ্গে কোনো ব্যবসা করতে চান না এবং এ সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

স্পেনে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমান ঘাঁটিসহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এপ্রিলেই পেন্টাগনের এক অভ্যন্তরীণ নথিতে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেওয়া ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে স্পেনকে জোট থেকে সাময়িক স্থগিত করার বিকল্পও ছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে ইরানযুদ্ধে সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্পেনের ওই অবস্থানের কারণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকে।

তবে ট্রাম্পের আকস্মিক এই নির্দেশকে পাত্তা দিচ্ছে না স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ট্রাম্পের এই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে একে ‘স্বাভাবিক বিষয়’ হিসেবেই দেখছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দেশের চমৎকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক’ রয়েছে যা থেকে দুই দেশই উপকৃত হচ্ছে। এই সম্পর্ক পরিবর্তন করার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই। তাছাড়া, স্পেন জোর দিয়ে এও বলেছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি ট্রেড ইউনিয়ন। ফলে ইইউ এর কোনও সদস্য দেশকেই বাণিজ্যর বিষয়ে বাকিদের থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। স্পেন এ বছরের শুরুর দিকেও ট্রাম্পের একইরকম হুমকির জবাব একইভাবেই দিয়েছিল। সে সময় ট্রাম্পের বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের হুমকির জবাবে স্পেন বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র মাদ্রিদের সঙ্গে এককভাবে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে না। কারণ, এই সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে ইইউর সঙ্গেও আছে।

স্পেনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধের সূত্রপাত হয় গত বছরের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে তাদের জিডিপির পাঁচ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ন্যাটোর সব সদস্য দেশ এ প্রস্তাবে রাজি হলেও, একমাত্র স্পেন তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। মাদ্রিদের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন। এরপর থেকেই স্পেনের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। স্পেনের সঙ্গে ট্রাম্পের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, একমাত্র জোটই সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্যনীতি এককভাবে নির্ধারণ করে থাকে।

সম্মেলনের মধ্যেই কিয়েভে হামলা : তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন চলার মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এক সপ্তাহের কম সময়ে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা।

শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, গতকাল বুধবারের হামলায় কিয়েভের দুটি জেলায় আগুন লাগে। এতে একজন নিহত এবং অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওডেসায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। সোমবারও কিয়েভে বড় ধরনের হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত এবং বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত