সাগরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিনে ফিরছেন শতাধিক মানুষ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ পিএম

বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তাল সমুদ্রের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে গত ১০ দিন ধরে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রলার ও সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সওদা ও জরুরি প্রয়োজনে মূল ভূখণ্ড টেকনাফে এসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের শতাধিক বাসিন্দা।

টেকনাফের বিভিন্ন হোটেল ও আত্মীয়ের বাড়িতে দীর্ঘ দিন আটকে থাকার পর, তীব্র আর্থিক সংকট ও ঘরে ফেরার আকুলতায় শেষমেশ নিরুপায় হয়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েছেন এই অসহায় মানুষগুলো। 

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী ঘাট থেকে অন্তত ৫০-৬০ জন যাত্রী নিয়ে একটি কাঠের সার্ভিস ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বর্তমানে সেন্টমার্টিন ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে উত্তাল সাগরের ঢেউ ট্রলারটিকে গ্রাস করতে পারে জেনেও, অনেকটা ভাগ্যের ওপর ভরসা করেই ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিপজ্জনক নৌপথ পাড়ি দিচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের আকুতি: টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাটে ট্রলারে ওঠার প্রাক্কালে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, আমরা চিকিৎসার জন্য এসে এখানে পরিবার ছেড়ে দিনের পর দিন আটকে আছি। হোটেলে থাকার টাকা শেষ, ওদিকে দ্বীপে আমার পরিবারও খাদ্য ও জরুরি ওষুধের সংকটে ভুগছে। বাধ্য হয়েই আজ আল্লাহর ওপর ভরসা করে ট্রলারে উঠেছি। যদি আমাদের জন্য নিরাপদ সরকারি যাতায়াত ব্যবস্থা থাকত, তবে এমন উত্তাল সাগরে সন্তান নিয়ে কেউ মৃত্যুঝুঁকি নিত না।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বীপের মানুষের জীবন থমকে যায়। ট্রলার বন্ধ থাকলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে এবং তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট দেখা দেয়। আমরা সরকারের কাছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে অনতিবিলম্বে একটি স্থায়ী সি-ট্রাক এবং জরুরি রোগী বহনের জন্য একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এবিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনিক চৌধুরী জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় এবং সাগরে বড় বড় ঢেউ থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সাধারণ নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে কিছু মানুষের জরুরি পরিস্থিতির কথা আমরা জানতে পেরেছি। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুষের দীর্ঘমেয়াদী দুর্ভোগ লাঘবে এবং জরুরি যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সি-ট্রাক চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, উপকূলের এই বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে দ্রুত একটি উন্নত সি-ট্রাক ও স্থায়ী সি-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হোক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত