সুবৃহৎ ঘন সবুজ অরণ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় চূড়া। শ্বেতশুভ্র মেঘলোক ছাড়িয়ে বিস্তৃতি। ঘন কুয়াশার আবরণ চূড়াকে রহস্যময় করে তুলেছে। সুপ্রাচীন কোনো সভ্যতার চেয়েও প্রাচীন রোরাইমা পাহাড়চূড়া অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে। ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও গায়ানার সীমান্ত যেখানে মিলেছে এক মোহনায়, সেখানে ঘন সবুজ অরণ্যে ঘেরা এই পাহাড়চূড়া। চূড়া অন্যসব পর্বতের মতো এটি তীক্ষè আর খাড়া নয়, বরং সমতল। এ ধরনের পর্বতকে বলা হয়, টেপুই। অর্থ ‘দেবতাদের আবাসস্থল’। অঞ্চলটি প্রকৃতপক্ষে মালভূমি। মাউন্ট রোরাইমার বিস্তৃতি কল্পনার চেয়েও বিশাল। এর চূড়া ৩১ বর্গ কি.মি.। চূড়াটিকে চারদিক থেকে ঘিরেছে ৪০০ মিটার উচ্চতার পাথুরে পর্বত দেয়াল। মাউন্ট রোরাইমা ও অন্য টেপুইগুলো গঠিত হয়েছিল প্রায় ২ বিলিয়ন বছর আগে, প্রি-ক্যাম্বিয়ান যুগে। ঔপন্যাসিক স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের কল্যাণে ইতিহাসে এটি, গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করেছে। লেখক তার ক্লাসিক উপন্যাস ‘দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড’ লেখার অণুপ্রেরণা পেয়েছিলেন এটি দেখে।
মাউন্ট রোরাইমাতে অন্য দশটা টেপুই মালভূমির অন্যান্য প্রাণী তো রয়েছেই, রয়েছে এমন দুটি উদ্ভিদ যা শুধু মাউন্ট রোরাইমাতে পাওয়া যায়। এরা আছে পাহাড়ের চূড়ায়। সমতল চূড়ায় বেশ কিছু পুকুর ও হ্রদ রয়েছে। এটি উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও প্রাণিবিজ্ঞানীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। এখানে পাওয়া বিশেষ প্রজাতির কালো ব্যাঙ রোরাইমা বুশ টোড। দিবাচর এই ব্যাঙটিকে পাথরের খাঁজে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। সারা দিন রোদ্দুর এখানে পাওয়া যায় না। প্রতিদিন কমবেশি বৃষ্টি হয় এখানে। এর সমস্ত তথ্য বিজ্ঞানীরা, এখনো প্রকাশ করতে পারেননি।