পাইলস অবহেলার রোগ নয়

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ এএম

অনেকের কাছেই পরিচিত রোগ পাইলস বা হেমোরয়েড। অনেকে ভাবেন, মলদ্বারের যেকোনো রক্তপাত, ব্যথা বা গুটি মানেই পাইলস। বাস্তবে একই উপসর্গ ফিশার, ফিস্টুলা, সংক্রমণ, এমনকি ক্যানসারের কারণেও হতে পারে। তাই সঠিক পরীক্ষা ছাড়া রোগ নির্ণয় করা বিপজ্জনক।

কারা ঝুঁকিতে : সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পানি কম পান, ফাস্টফুড গ্রহণ এবং দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে পাইলস বা এ সম্পর্কিত মলদ্বার অন্য রোগে আক্রান্ত হন। পাইলসের মূল কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যকে চিহ্নিত করা হয়। নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় হরমোনগত পরিবর্তন, রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং শিশুর চাপের কারণে পাইলসের উপসর্গ দেখা দেয়। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের কারণে আজকাল তরুণরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

পাইলসের ধরন

১. এক্সটারনাল হেমোরয়েড; ২. ইন্টারনাল হেমোরয়েড

এক্সটারনাল হেমোরয়েড : মলদ্বারের বাইরের অংশে ঘটে। এর ফলে তীব্র ব্যথা এবং মলদ্বার ফুলে যায়। চুলকানি দেখা দেয়। রক্তপাতও হয়। অনেক সময় রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বোসড পাইলস হয়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।

ইন্টারনাল হেমোরয়েড : মলদ্বারের ভেতরের অংশে ঘটে। মলত্যাগের সময় তাজা লাল রক্ত বের হয়। টয়লেটের সময় মাংসপি- বের হয়ে আসা।

কারণ : পাইলস হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে জীবনযাপন পদ্ধতিকে ধরা হয়। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘনঘন ডায়রিয়া, গর্ভাবস্থা অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা, একই জায়গায় অনেকক্ষণ বসে থাকা, কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, টয়লেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা। এসব অভ্যাসে মলদ্বারের রক্তনালিতে চাপ পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে পাইলস তৈরি হয়।

চিকিৎসা : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। রাবার ব্যান্ড লাইগেশন করা অর্থাৎ পাইলসের গোড়ায় একটি ব্যান্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়, যা পাইলসটিকে ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। সেক্লুরোথেরাপি মানে পাইলসকে সংকুচিত করার জন্য একটি বিশেষ তরল ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইলেকট্রোথেরাপি হলো পাইলসকে সংকুচিত করতে মৃদু বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর যদি উপরের পদ্ধতিগুলো কাজ না করে, তাহলে লেজার সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত