চট্টগ্রাম নগরীর তীব্র যানজটের পেছনে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ও সড়ক দখল করে গাড়ি রাখাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই পরিস্থিতিতে নগরীর হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং অনুমোদিত নকশার শর্তাবলি পর্যালোচনার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে নেমেছে সিডিএর একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল।
সোমবার (২০ জুলাই) নগরীর জিইসি মোড় এলাকার মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়্যাল হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ও সিএসসিআর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এসময় তারা হাসপাতালগুলোতে পার্কিংয়ের জায়গায় অফিস ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখার মতো ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান।
সিডিএ সূত্র জানায়, পরিদর্শনের সময় হাসপাতালগুলোতে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা, প্রয়োজনীয় পার্কিং স্পেস না রাখা, নকশায় পার্কিং হিসেবে দেখানো স্থানকে অফিস বা অন্য কাজে ব্যবহার, পার্কিং এলাকা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা এবং পার্কিংয়ের জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করছি। হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। খুব শিগগিরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। তারা নকশা বহির্ভূতভাবে ও পার্কিং ব্যবস্থা না রেখেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা নিজেরাও খুব ভালো করে জানে যে তারা সিডিএর কোন কোন আইন ভঙ্গ করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে চেয়ারম্যান আরও বলেন, তারা যেন অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলে। আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা রাখা একটি ‘আইওয়াশ’, সেটি করা চলবে না। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরীর যানজট নিরসনে সব সেবা সংস্থা এখন একতাবদ্ধ উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, সিডিএ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, সিএমপিসহ সব সেবা সংস্থা এখন একমত হয়েছি যে, যেকোনো মূল্যে এই নগরের যানজট নিরসন করা হবে। এই শহরকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের প্রশ্নে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পরবর্তী পরিদর্শনে যদি হাসপাতালের আকার অনুসারে পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হয়, তবে কোনো অজুহাত না শুনে সরাসরি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২ এর চেয়ারম্যান এ.জি.এম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, অথোরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ, অথোরাইজড অফিসার-২ তানজীব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া
পেদ্রির যে কথায় রেগে গিয়েছিলেন পারেদেস