ইরানের একের পর এক হামলার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কাতার। চিঠিতে সাম্প্রতিক আক্রমণের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে কাতার এসব ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
জাতিসংঘে প্রেরিত নথিতে গত ৭ জুলাই কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাঙ্কার ‘আল রেকেয়াত’-এ হামলা এবং ১২ জুলাই কাতারের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়। ১২ জুলাইয়ের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি কাতারি সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে ব্যর্থ করে দেয় বলে দোহার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কাতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর চরম লঙ্ঘন। ঘটনাগুলোর ফলে সৃষ্ট ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাওয়ার পাশাপাশি এসব আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার কাতার সংরক্ষণ করে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যখন নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই কাতারের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। এর মধ্যেই ওমান উপকূলের কাছে অপর একটি বাণিজ্য জাহাজে নতুন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম (ইউকেএমটিও)। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
জাহাজটি আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত ‘দক্ষিণী রুট’ দিয়ে যাতায়াত করছিল। তবে তেহরানের দাবি, তাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে বা না জানিয়ে এই রুট ব্যবহার করলে তা প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচলের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ, জলপথে ইরানি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ দুর্বল করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো কৃত্রিমভাবে এই রুটকে উৎসাহিত করছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি কেন্দ্র করে সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে পৌছেছে।
সূত্র: আলজাজিরা