বিশ্বমঞ্চে সুরাইয়া

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

জন্মের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। ৯ বছর বয়সে হারান বাবাকেও। কিন্তু জীবনযুদ্ধ থামাতে পারেনি কক্সবাজারের কিশোরী সুরাইয়া আলমকে। এবার ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠিত টিন ঈগল গ্লোবাল অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৭১টি দেশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্পিকিং ইংলিশে সিলভার ও কুইজে ব্রোঞ্জপদক জিতেছে সে। কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো জেলার হয়ে এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে পদক জিতে বিশ^মঞ্চে উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশের নাম। সুরাইয়া শহরের পাহাড়তলীর মৃত মোহাম্মদ আলম ও আঞ্জুমান আলম দম্পতির ছোট মেয়ে।

গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াডের গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন সুরাইয়া। সে দেশের অক্সফোর্ড শহরের ‘ইউনিভার্সিটি অব সারে’তে অনুষ্ঠিত হয় টিন ঈগল গ্লোবাল অলিম্পিয়াড়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। সেখানে বিশ্বের ৭১টি দেশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কুইজ, স্পিকিং ইংলিশ ও স্পেলিং এই তিনটি বিষয়ে প্রতিযোগিতা করেন তিনি। এর মধ্যে স্পিকিং ইংলিশে সিলভার পদক ও কুইজ প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতে সুরাইয়া।

প্রতিযোগিতার ব্যস্ততার মধ্যেই আয়োজকরা প্রতিযোগীদের নিয়ে ঘুরেছেন অক্সফোর্ড ও লন্ডন শহর। তাদের সঙ্গে সুরাইয়াও ঘুরে দেখেছেন যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অক্সফোর্ড আর কেমব্রিজ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাব্দীপ্রাচীন ক্যাম্পাসে হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হয়েছে, ইতিহাস যেন এখানে থমকে নেই, বরং প্রতিটি ইটে বেঁচে আছে। সুরাইয়া বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বইয়ে অক্সফোর্ডের নাম পড়েছি। এবার নিজের চোখে সেই ঐতিহাসিক শহর দেখার সুযোগ হয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন ভবন, শিক্ষার ঐতিহ্য এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বিদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। সেখানে শুধু বইভিত্তিক পড়াশোনার ওপর নির্ভর করা হয় না। বাস্তব অভিজ্ঞতা, গবেষণা, এক্সপেরিমেন্ট এবং নতুন কিছু শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।’

এদিকে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারে এবার অলিম্পিয়াডের গ্লোবাল নাইট অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই মঞ্চেই কক্সবাজারের মেয়ে দেশের পতাকা হাতে নিয়ে কোয়ালিটি এডুকেশন বিষয়ে বৃক্ততা দেন। এ ব্যাপারে সুরাইয়া বলে, ‘বাংলাদেশের পতাকা হাতে যখন মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি শুধু নিজের নয়, পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।’

সুরাইয়ার মেন্টর রাসেল আফিফ বলেন, ‘সুরাইয়ার মেধা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রমের প্রতি বিশ্বাস ছিল বলেই সে এত দূর এসেছে। আমি শুধু পথ দেখানোর চেষ্টা করেছি।’

এ বিষয়ে হেরিটেজ স্কুল, নারায়ণগঞ্জের কো-অর্ডিনেটর ও এই অলিম্পিয়াডের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সুরাইয়ার অংশগ্রহণ ও অর্জন ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।’

কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফুন্নেছা বেগম বলেন, ‘সুরাইয়া অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী হিসেবেও অত্যন্ত ভালো। তার এই অর্জন শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের নয়, পুরো দেশের। আমরা বিশ্বাস করি, সে ভবিষ্যতেও দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত