প্রত্যর্পণ চিঠির জবাবে ভারতের সাড়া পাওয়ার আশায় সরকার

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪১ এএম

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ যারা ভারতে চলে গেছেন, তাদের ফেরত চেয়ে দেশটির সরকারকে ভিন্ন ভিন্ন চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠির বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে অনুকূল জবাব আশা করছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গতকাল ঢাকায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এক সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ যারা ভারতে গেছেন, তাদের ফেরত চেয়ে দেশটিকে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে এমন তথ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইনে বিচার চলছে। তিনি যেহেতু পলাতক আসামি, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে চিঠি দেওয়া প্রয়োজন, সেটাই আমরা দিয়েছি।’

তিনি বলেন, কূটনৈতিক নীতিমালা, প্রটোকল এবং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচার সম্পন্ন করা হবে; ঠিক যেভাবে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামির বিচার হবে।

চিঠিটি কবে পাঠানো হয়েছে এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি পাঠানোর কথা জানিয়ে বলেন, যখন যা প্রয়োজন, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই উদ্যোগ নেবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। যারা পলাতক আসামি, যাদের বিচার হয়েছে, সাজা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার কার্যকর করা হবে।

প্রত্যর্পণের জন্য পাঠানো চিঠির বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকার কী প্রতিক্রিয়া আশা করে এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভারত একটি অনুকূল (পজিটিভ) জবাব দেবে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ভারত তার দায়িত্ব পালন করবে।

গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে আইসিটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে এক রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদ- দেন।

‘বিমসটেকের তিন দশক : যৌথ সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার অগ্রগতি’ শীর্ষক সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে শামা ওবায়েদ অর্থনৈতিক একীকরণ, সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সুনীল অর্থনীতি এবং জনকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন। তিনি আঞ্চলিক জোটের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও বলেন।

বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে নারী উন্নয়ন, জলবায়ু অভিযোজন, বিদ্যুতের গ্রিড সংযোগ, জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার সিকিউরিটি, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিমসটেকের উদ্যোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিআইআইএসএস মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএসএম রিদওয়ানুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান ও ড. কাজী মারুফুল ইসলাম সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এএনএম মুনিরুজ্জামান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত