দারিদ্র্য ঘুচিয়ে একটু ভালো জীবনের আশায় বাড়ি ছেড়েছিলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে তাদের সেই স্বপ্ন এখন রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। ইউরোপের দেশ ইতালিতে পাঠানোর নাম করে লিবিয়ায় নিয়ে তাদের আটকে রেখেছে একটি মানব পাচারকারী চক্র। একটি গোপন আস্তানায় তাদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতনের সেই ভিডিও ও ফুটেজ পাঠিয়ে চক্রটি এখন যুবকদের পরিবারের কাছে দেড় কোটি টাকা (জনপ্রতি ২৫ লাখ) মুক্তিপণ দাবি করছে। সন্তানদের ওপর এমন বর্বর নির্যাতন দেখে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা। সন্তানদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছে।
জিম্মি হওয়া যুবকরা হলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন, মানিকুল ইসলাম, মো. সোহেল, তাজ মোহাম্মদ, ফয়সাল এবং বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান।
ভুক্তভোগী পরিবার জানা গেছে, দিশাবন্দ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আগে যুবকদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নেয় একই গ্রামের সামছুল আলম নামের এক দালাল।
মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান কণ্ঠে বলেন, তার ছেলেকে ইতালিতে পাঠানোর জন্য ৯ মাস আগে মানিকের ভাই সামছুল আলম ২০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু লিবিয়ায় নেওয়ার পর তাকে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই কথা জানান জিম্মি মেহেদী হাসানের বাবা শাহআলমও। তিনি ১৮ লাখ টাকা দিয়েছিলেন সামছুল আলমকে।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, লিবিয়ায় নেওয়ার পর প্রায় আট মাস যুবকদের নিজেদের হেফাজতে রাখে স্থানীয় দালালচক্র। সম্প্রতি তাদের আরও একটি বড় ও সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ১৫-২০ দিন ধরে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এদিকে যুবকদের নির্যাতন করার ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ১০-১২ দিন ধরে দালাল সামছুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এমতাবস্থায় সন্তানদের জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অসহায় পরিবারগুলো।