মানুষের দেহ, মন, সময় ও সামর্থ্য সবই মহান আল্লাহর দেওয়া আমানত। এই আমানতের যথাযথ হেফাজত করা মুমিনের দায়িত্ব। তাই নিজের প্রতি অবহেলা যেমন কাম্য নয়, তেমনি নিজের যত্ন নেওয়াও কোনো বিলাসিতা বা আত্মকেন্দ্রিকতা নয়, বরং তা ইবাদতেরই অংশ।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্বহস্তে নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা ১৯৫) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, এমন কোনো কাজ করা বৈধ নয়, যা মানুষের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির কারণ হয়। আবার রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমার শরীরের ওপর তোমার অধিকার রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি ৫১৯৯) অর্থাৎ শরীরকে সুস্থ রাখা, বিশ্রাম দেওয়া এবং এর প্রয়োজন পূরণ করাও ইসলামের শিক্ষা।
ইসলাম পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। অজু, গোসল, পরিষ্কার পোশাক পরিধান, নখ কাটা, মিসওয়াক করা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং শরীর-পরিচ্ছন্নতার নানা বিধান সেটারই প্রমাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন।’ (সহিহ মুসলিম ৯১) তাই পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন থাকা অহংকার নয়, বরং এটি একজন মুসলিমের উত্তম পরিচয়ের অংশ।
নিজের যত্ন শুধু শরীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং হৃদয় ও আত্মার যতœও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফার মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত রাখে। পাশাপাশি রাগ, হিংসা, অহংকার ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখারও নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। কারণ সুস্থ হৃদয়ই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও ইসলাম ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়। হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ, অতিভোজন থেকে বিরত থাকা এবং পরিমিত আহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণও সুন্নাহসম্মত। নবীজি (সা.) নিজেও চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবিদেরও চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করেছেন।
বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ কাজের ব্যস্ততায় নিজের শরীর, মন ও ইমানের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। কেউ অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত, কেউ পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেন না, আবার কেউ মানসিক চাপের ভারে নুয়ে পড়েন। অথচ একজন সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রশান্ত মানুষই পরিবার, সমাজ ও দ্বীনের জন্য বেশি উপকারী হতে পারেন।
লেখক : ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক