আমাদের চারপাশে নানা ধরনের মানুষ আছে। কেউ জ্ঞানী। কেউ দানশীল। কেউ ইবাদতে অগ্রগামী। এসব ভালো বিষয়াবলি দেখে মনে নানা অনুভূতি জাগে। ইসলাম এমন অনুভূতিকেও সঠিক পথে পরিচালিত করেছে। অন্যের নেয়ামত নষ্ট হয়ে যাক, এমন কামনা করা হারাম। কিন্তু অন্যের কল্যাণ দেখে নিজেও তেমন কল্যাণ লাভের আকাক্সক্ষা করা প্রশংসনীয়। ইসলামের ভাষায় একে বলা হয় ‘গিবতাহ’। এটি হিংসা নয়। এটি আত্মউন্নয়নের প্রেরণা। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন ঈর্ষাকে বৈধ ঘোষণা করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রতি ঈর্ষা করা বৈধ নয়। একজন সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ কোরআনের জ্ঞান দান করেছেন। সে দিনরাত তা তেলাওয়াত করে এবং তা অনুসরণ করে। আরেকজন সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন। সে দিনরাত আল্লাহর পথে তা ব্যয় করে।’ (সহিহ বুখারি ৫০২৫)
এই হাদিসে ‘ঈর্ষা’ বলতে হারাম ‘হাসাদ’ বোঝানো হয়নি। এখানে বোঝানো হয়েছে ‘গিবতাহ’। অর্থাৎ অন্যের নেয়ামত নষ্ট হওয়ার কামনা নয়। বরং আল্লাহর কাছে নিজের জন্যও তেমন নেয়ামত প্রার্থনা করা। একজন মুমিন অন্যের সফলতা দেখে কষ্ট পায় না। সে অনুপ্রাণিত হয়। সে আল্লাহর কাছে আরও বেশি কল্যাণ কামনা করে।
হাদিসে প্রথম যে ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, তিনি কোরআনের মানুষ। আল্লাহ তাকে কোরআনের জ্ঞান দিয়েছেন। তিনি শুধু মুখস্থ করেন না। কোরআন তেলাওয়াত করেন। তা বুঝে আমল করেন। অন্যদেরও শিক্ষা দেন। তার জীবন কোরআনের আলোয় আলোকিত। এমন মানুষকে দেখে একজন মুমিনের মনে ইচ্ছা জাগবে, আল্লাহ আমাকেও কোরআনের সেবক বানিয়ে দিন। এই আকাক্সক্ষাই গিবতাহ।
দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন সেই ধনবান, যিনি নিজের সম্পদকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেন। তিনি দান করেন। অভাবীদের পাশে দাঁড়ান। দ্বীনের খেদমতে ব্যয় করেন। তার সম্পদ শুধু তার নিজের উপকারে আসে না। সমাজেরও উপকার করে। এমন মানুষকে দেখে একজন মুমিনের মনে কামনা জাগতে পারে, আল্লাহ আমাকেও এমন সম্পদ দিন, যাতে আমিও আপনার পথে উদারভাবে ব্যয় করতে পারি। এটিও গিবতাহ। এটিও ইবাদত।
লেখক : ইসলামি গবেষক