খুবিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ এএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে আটক ক্যান্টিন কর্মচারীর বিচারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিন দফা দাবি উত্থাপন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে

প্রথম দফা : হলের ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মচারী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

দ্বিতীয় দফা : যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা।

তৃতীয় দফা : সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন ২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে দাবিগুলো নিয়ে সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে সময়ক্ষেপণ করেছে। এ অবস্থায় দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে হাদি চত্বরে অবস্থান নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে বিজয় ২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যান্টিন কর্মীকে আটক করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘বিজয় ২৪’ হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে তদন্ত করে হলের ক্যান্টিন মালিকের ছেলে ও প্রায় ২ বছর ধরে কর্মরত ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে দুই-তিনটি ভিডিও পাওয়া যায়। আরও ভিডিও রয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি ছিল এক ব্যক্তির পক্ষে ছয় মাসে প্রায় ৯০০টি ভিডিও ধারণ করা সম্ভব নয়।

এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘটনার বিচার, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত