যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং দুই দেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে তার এই সফর, এমনটি মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পেশায় ব্যবসায়ী গোর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রিপাবলিকান পার্টির উদীয়মান নেতাদের একজন। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব্ পালনের পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় দেশটির বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গত বছর তিনি হোয়াইট হাউজে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা সফরের প্রথম দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করবেন। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন তিনি।
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রেক্ষাপটে গোর ঢাকা সফর করবেন।
সার্জিও গোরের সফরের তাৎপর্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিজ) সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে গতকাল শুক্রবার বলেন, অনেক দিন পর বাংলাদেশে নতুন সরকার এসেছে, মাত্র চার মাস হয়েছে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রসহ যেকোনো দেশ চাইবে বাংলাদেশে নিজের স্বার্থের দিকটি নিশ্চিত করার জন্য যুক্ত হতে। নতুন প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন সফর করায় গোরের ঢাকা সফরের ওপর সবার নজর পড়ছে।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে আগে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি চাপিয়ে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক জনমতের দিক থেকে কিছুটা নেতিবাচক অবস্থানে আছে। চুক্তিটির ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী না হয়ে উল্টো দুর্বল হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে গতি আনতে গোর চেষ্টা করতে পারেন।
কিছু কূটনৈতিক বিশ্লেষক অবশ্য মনে করেন, গোরের সফর যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে ধারাবাহিক যোগাযোগের অংশ। এই সফরের ঠিক আগে আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সার্জিও গোরের আলাপ হয়েছে। এরও আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করে, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ছন্দপতন ঘটে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নেতিবাচক দিকগুলোও গোর ঢাকায় একান্ত আলোচনার মাধ্যমে বুঝতে চাইতে পারেন।
তবে গোর ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, এটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই বলে মনে করেন মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, যিনি এর আগে চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি বলেন, একটি দেশ তার রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একজন রাষ্ট্রদূতকে একটি অঞ্চলের দায়িত্ব দিতেই পারে। তিনি নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখবেন। তিনি এসে এবং শেষ পর্যন্ত কী করেন, সেটাই দেখার বিষয়।