চট্টগ্রাম

১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পেয়েছি ২৫০ টাকার

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

রবিবার দুপুর তিনটায় কদমতলীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে লাইন ধরেছি। ভোর পাঁচটায় আমার সিরিয়াল এসেছে। যেই গ্যাস দেওয়া শুরু হলো, কমে গেল গ্যাসের চাপ। এক টানা ১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২৫০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এই গ্যাস দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা আয় করতে পারব। এর মধ্যে অর্ধেকের মতো মালিককেই জমা দিতে হবে। এ রকম অবস্থা চলতে থাকলে কিভাবে যে চলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর তিনটার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ান হাট মোড়ে বিশ্রাম নেওয়ার ফাঁকে কথাগুলো বলছিলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ কামাল।

তার মতো একই অবস্থা আরেক সিএনজি চালক মো. আলমগীরেরও। তিনি রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বহদ্দারহাট র‍্যাব কার্যালয়ের পাশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তখন তার লাইন থেকে স্টেশনের দূরত্ব ছিল প্রায় ২ কিলোমিটার। দীর্ঘ লাইন ঠেলে রাত ১২টায় যখন স্টেশনে পৌঁছালেন ততক্ষণে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। অগত্যা ১৫০ টাকার গ্যাস নিয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে। আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৫০ টাকার গ্যাস দিয়ে আমি ১ হাজার টাকার ভাড়া কাটতে পারব। কিন্তু মালিককেই জমা দিতে হবে ১ হাজার ২০০ টাকা। বাকি ২০০ টাকা পকেট থেকেই দিতে হবে।

কামাল ও আলমগীরের মতো চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ, সিটি গেট ও ষোলশহর এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও অটোরিকশা চালকদের একই করুণ দশা। যেখানে আগে ২০ থেকে ৩০ মিনিটে গ্যাস পাওয়া যেত, এখন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে আটকে থাকায় চালকদের প্রতিদিনের বড় একটা সময় নষ্ট হচ্ছে, আয় নেমে এসেছে তলানিতে। অনেকেই গাড়ির ভেতর কিংবা সড়কের পাশে ঘুমে ঢুলে রাত পার করছেন। এমনকি ঠিকমতো জমার টাকা তুলতে না পেরে বাধ্য হয়ে অনেকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া চাইছেন।

জাতীয় গ্রিডে তীব্র সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় টানা ১৩ দিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে গ্যাস সংকট চলছে। রবিবার (২ আগস্ট) থেকে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা। সংকট দেখা দিয়েছে গণপরিবহনেও। যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি ভাড়া। গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে একসিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লেগে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে দেশজুড়ে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে দৈনিক অন্তত ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ১৬ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। এই স্বল্প সরবরাহ দিয়ে সমন্বয় করতে গিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের ঘরেও রান্নাবান্নার সংকটে পড়তে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানান, বিশেষজ্ঞ দল টার্মিনালে মেরামত কাজ চালাচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত