জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তৈরি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে মব সৃষ্টি করছে। তারা বিদেশি অতিথিদের সামনে সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতেও মব সৃষ্টি করছে। জামায়াত-এনসিপির মব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার অপচেষ্টা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন ঘটাতে চায়। জামায়াত ভুলে গেছে, তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। কাজেই তারা কখনোই দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ক্ষমতায় যেতে হলে জামায়াত-এনসিপিকে অন্তত ১০ বছর বিরোধী দলে থাকতে হবে।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তাদের দেশে আর রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা যেভাবে মব সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন, তাতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তাঁরাই তৈরি করছেন।
বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারকে চাপে রাখতে আপনারা একের পর এক হঠকারী কর্মকাণ্ড করছেন। এসব কর্মকাণ্ড জনগণ মেনে নেবে না। জামায়াত ও এনসিপিকে মনে রাখতে হবে, বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে মেরে ফেলার চেষ্টা করবেন না। বিএনপি মরলে জামায়াত ও এনসিপিকেও মরতে হবে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যদি ফেরে, দমন-পীড়ন যেভাবে বেড়ে যাবে, তা ভাবতেও পারছেন না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি এ নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেধা, যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
জামায়াত ও এনসিপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রার্থী দিচ্ছে না। আমরা চাই, তারাও প্রার্থী দিক। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি এম রায়হান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল উপস্থিত ছিলেন।
