শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ছৈয়াল কান্দি এলাকায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে, চুল কেটে গাছে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই তরুণীসহ তাঁর ছোট ভাই ও বোনকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে রাত ১টার দিকে সখিপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে সখিপুর থানার ছৈয়াল কান্দি এলাকার মনির মোল্লার মুদি দোকানে পণ্য কিনতে যান ওই তরুণী ও তাঁর ছোট ভাই-বোন। দোকানে তখন দোকানদার মনির মোল্লা তরুণীর শরীর স্পর্শ করেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। এতে তরুণী রাজি না হওয়ায় আরসি-কোলা চুরির অপবাদ এনে দোকানের পাশে ফৌজিয়া সরদারের বাড়ির একটি কক্ষে তাঁদের তিন ভাই-বোনকে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়।
তাতেই খান্ত না হয়ে, দুপুর ১২টার দিকে ওই বাড়ির উঠানে নিয়ে তরুণীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়, মাথার চুল কেটে ফেলা হয় এবং গাছের সাথে বেঁধে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। মনির মোল্লার পাশাপাশি তাঁর আত্মীয় আফসানা আক্তার, ফৌজিয়া সরদার ও নিশি সরদারসহ বেশ কয়েকজন মিলে তাঁকে মারধর করেন। পরবর্তীকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মনির মোল্লাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শুক্রবার রাতে সখিপুর থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৪) করেন।
নির্যাতনের শিকার তরুণী বলেন, ‘আমার ছোট ভাই-বোনকে নিয়ে মনির মোল্লার দোকানে যাই। তখন তিনি আমাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং রাতে তাঁর কাছে যেতে বলেন। আমি রাজি না হওয়ায় মনির আমার শরীরে হাত দেয়। পরে আরসি-কোলা চুরির অপবাদ দিয়ে আমিসহ আমার ছোট ভাই-বোনকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রাখে এবং পরে ৪ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। আমি এর বিচার চাই।’
ওই তরুণীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমার ছোট ছেলে-মেয়েকেও আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার পর আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে মনির মোল্লা ও তাঁর পরিবার। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মনিরসহ এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।’
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মনির মোল্লা বলেন, ‘আমি তাকে কুপ্রস্তাব দেইনি। তিনি আমার দোকানে চুরি করেছে। তাই স্থানীয়রা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানান, চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীকে গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
