জিসান আহমেদের ব্যাটিং-ঝড়ে ২ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও সুবিধা করতে পারেনি মালয়েশিয়া ক্রিকেট দল। ৭ উইকেট ও ৭৪ বল হাতে রেখে ম্যাচ জেতার পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। গতকাল মিরপুরে ১০৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান জিসান। ফিফটি করে ২১ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
অবশ্য এই জয়ের রাস্তা সহজ করে দেন বোলাররা। শুরু থেকেই মালয়েশিয়ার ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন তারা। দলীয় ১৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা। মোহাম্মদ রুবেলের বলে শূন্য রানে আউট হন ওপেনার সাইফ উল্লাহ মালিক। এরপর আসলাম খান বিন মালিকের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ। তবে সেই জুটিও বেশি দূর এগোয়নি। রাকিবুল হাসানের বলে ২০ বলে ১৮ রান করে ফেরেন আসলাম।
এক প্রান্ত আগলে রাখেন আজিজ। তবে তার ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে মালয়েশিয়ার রান বাড়েনি। চার নম্বরে নেমে আহমেদ আকীল ওয়াহিদ কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ৩৩ বলে ৩০ রান করে আবু হায়দার রনির শিকার হন তিনি। এরপরও মালয়েশিয়ার রান বাড়ানোর গতি ছিল মন্থর। এইচপি দলের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে শট খেলতে পারেননি।
শেষ দিকে আজিজের সঙ্গে জুটি গড়েন শারভিন মুনিয়ান্ডি। তবে ইনিংসের শেষ ওভারের আগেই ৫২ বলে ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন মালয়েশিয়ার অধিনায়ক আজিজ। শেষ পর্যন্ত ৭ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন শারভিন। তার সঙ্গে ২ বলে ২ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন বিজয় উনি। এতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রানে থামে মালয়েশিয়ার ইনিংস।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় ঝোড়ো সূচনা করেন দুই ওপেনার জিসান ও জাওয়াদ আবরার। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি জাওয়াদ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সমান দুটি করে চার ও ছক্কায় ৮ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। তাকে ফেরান পেসার আরিফউল্লাহ। একই ওভারে আরিফের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিন নম্বরে নামা আরিফুল ইসলাম। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও ঝড় থামাননি জিসান। চার নম্বরে থাকা সাব্বির রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তাণ্ডব চালাতে থাকেন এই ওপেনার। তাদের ৫০ রানের জুটিতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশ ইমার্জিংয়ের।
অবশ্য এদিনও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাব্বির। প্রশান্ত মাধুকার একটি বলে সøগ করতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৮ বলে ১২ রান করা এই ব্যাটার। এরপর শামীম পাটোয়ারীকে নিয়ে বাকি কাজটা শেষ করেন জিসান। ১৮ বলেই ফিফটি তুলে নেন এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত জিসানের ২১ বলে সাত ছক্কায় ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংসের সৌজন্যে বড় জয় পায় স্বাগতিকরা।
