থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি নতুন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ এবং বিদ্যমান লাইসেন্সগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ননথাবুরি প্রদেশের ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল ও ননথাবুরি প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার কার্যালয়ে দুটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সরকারের মুখপাত্র লালিদা পার্সভিভাতানা জানান, আগ্নেয়াস্ত্র আইন আরও কঠোর করা, অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং অস্ত্র রাখার অধিকার ও এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে যতটা সম্ভব আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে নিয়ে থাই সমাজকে আরও নিরাপদ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ননথাবুরি প্রদেশে সাম্প্রতিক দুটি গুলির ঘটনায় দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার এক শিক্ষার্থী নিজের স্কুল ও পারিবারিক বাড়িতে গুলি চালিয়ে অন্তত আটজনকে হত্যা এবং ২০ জনের বেশি মানুষকে আহত করেন। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর তিন দিন পর একই প্রদেশের একটি সরকারি কার্যালয়ে গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন। এ ঘটনায় এক সাবেক আইনপ্রণেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন করে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার অনুমতি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান লাইসেন্সগুলোও পর্যালোচনা করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে অস্ত্রের তথ্যভান্ডার আরও শক্তিশালী করা, অস্ত্রের বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং আইন লঙ্ঘনের শাস্তি কঠোর করার বিষয়গুলো রয়েছে।
থাইল্যান্ডে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার শাস্তি হিসেবে এক থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার বাথ (প্রায় ৬০০ ডলার) জরিমানার বিধান রয়েছে। দেশটির অস্ত্র আইন তুলনামূলক কঠোর হলেও এর প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেসামরিক মানুষের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার থাইল্যান্ডে অন্যতম বেশি। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানের পর এশিয়ায় থাইল্যান্ডেই বেসামরিক মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ২০১৭ সালের স্মল আর্মস সার্ভে ও গানপলিসি ডটঅর্গের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে প্রায় ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। প্রতিবেশী মালয়েশিয়ায় এই হার ছিল প্রতি ১০০ জনে একটিরও কম।