মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পল্লবীতে গুলি

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

রাজধানীর পল্লবীতে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদককারবারি ‘ল্যাংড়া’ রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ওই গুলির ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী। তাদের কাছ থেকে গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন, ১ হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া জোসনা নামে এক পথচারী নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রী পল্লবী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। ঘটনার পর ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিন ব্যবহৃত টয়োটা প্রিমিও গাড়িটি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়ি মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক ল্যাংড়া রুবেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে পল্লবীর কালশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যে রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের জেরে ওই গুলির ঘটনা ঘটে।

ডিবি প্রধান জানান, আলমগীর নিজেও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এ মামলায় তিনি ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, তার অন্য কোনো পরিচয় আমলে নেওয়া হবে না। তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত