দিনাজপুরের হাকিমপুরে হিলি রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত আগাছা পার্থেনিয়াম। দ্রুত বাড়তে থাকা এ আগাছা এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রেনযাত্রীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এ উদ্ভিদটি মানবদেহের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এসব বিষাক্ত আগাছা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
হিলি রেলস্টেশন এলাকা, স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় ও এর আশপাশে, সিগন্যাল পয়েন্ট ও রেললাইনের ধারে ঝাঁক ঝাঁকে ফুটে আছে পার্থেনিয়ামের সাদা ফুল। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এ স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। অসাবধানতাবশত অনেকেই এ গাছের সংস্পর্শে আসছেন, যা ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ। চিকিৎসকদের মতে, শুধু গাছ স্পর্শ নয়, এ ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েও ক্ষতি করতে পারে।
স্থানীয় আব্দুস সাত্তার, রাহিম শেখ বলেন, হিলি রেলস্টেশন বা আশপাশের এলাকায় বিষধর কিছু গাছ রয়েছে। এখানে আগে খেলাধুলা করতাম, এখন গাছগুলোর কারণে খেলতে পারি না। সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের উচিত এ গাছগুলো ধ্বংস করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখা। হিলি রেলস্টেশন মাস্টার জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, এটা বিষাক্ত গাছ কি না আসলে আমি জানি না। তবে রেলের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেব।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হুমায়ন কবির বলেন, পার্থেনিয়াম আগাছা মূলত আমাদের এ অঞ্চলের নয়, আমেরিকায় এটার বাস। এটার সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হচ্ছে, খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এটা মানুষের যেমন ক্ষতি করে, তেমনি গবাদিপশু জন্যও ক্ষতিকর। এ গাছের সংস্পর্শে এলে ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি, মারাত্মক একজিমা হতে পারে। পার্থেনিয়াম ফুলের রেণু বাতাসে ভেসে মানুষের শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে অ্যালার্জি, তীব্র হাঁপানি ও সাইনাসাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এ গাছের কাছাকাছি থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা লোপ পেতে পারে। গবাদিপশু এ ঘাস খেলে তাদের লিভার ও পাকস্থলীর ক্ষতি হয় এবং গাভীর দুধ তেতো হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটা খালি হাতে ধরা যাবে না।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, পার্থেনিয়াম আগাছা বিচ্ছিন্নভাবে রেলওয়ে স্টেশনের যে পরিত্যক্ত জায়গাগুলো আছে বা বিভিন্ন ভবনের পরিত্যক্ত জায়গায় হয়। এটা নির্মূলে পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। রেলওয়েসহ অন্য এলাকাগুলোতে সংশ্লিষ্টদের এ আগাছাটা তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে বলেছি। এ ছাড়া পুড়িয়ে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে স্প্রে করেও এটা নির্মূল করা সম্ভব। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের অবগত করেছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেটাকে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।