অস্টিওআর্থ্রাইটিস (OA) বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নীরব মহামারী। একটি ডিজেনারেটিভ জয়েন্টের রোগ, যেখানে অস্থিসন্ধির তরুণাস্থি (Cartilage) ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। শুধু তরুণাস্থিই নয়, রোগটি লিগামেন্ট ও হাড়কেও প্রভাবিত করে, যা শেষ পর্যন্ত হাঁটু, কোমর বা হাতের জয়েন্টে তীব্র ব্যথা ও নড়াচড়ায় কাঠিন্য সৃষ্টি করে।
প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যথানাশক ও স্টেরয়েড ইনজেকশন স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি দিলেও তরুণাস্থির পুনরুজ্জীবনে অকার্যকর। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে সম্প্রতি প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি চিকিৎসাবিজ্ঞানে আশার আলো দেখাচ্ছে।
পিআরপি হলো রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্রক্রিয়াজাত করা প্লাজমা, যাতে প্লাটিলেটের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ গুণ বেশি থাকে।
এটি প্রস্তুত করতে প্রথমে রোগীর শিরা থেকে রক্ত নেওয়া হয়। এই রক্তকে একটি বিশেষ মেশিনে (সেন্ট্রিফিউজ) ঘোরানো হয়। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, রক্তকে ৪০০ থেকে ৫৮০ গি (g-force) বলয়ে ৮ মিনিট ঘোরালে সর্বোত্তম প্লাটিলেট
পৃথকীকরণ নিশ্চিত হয়।
এরপর এতে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড মিশিয়ে প্লাটিলেট এক্টিভেট করা হয়, যার ফলে বৃদ্ধির কারণগুলো (গ্রোথ ফ্যাক্টর) মুক্ত হয়।
এটি জয়েন্টে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। পিআরপিতে থাকা গ্রোথ ফ্যাক্টরগুলো (PDGF, TGF-β) তরুণাস্থি কোষের বিস্তার ঘটায় এবং ম্যাট্রিক্স তৈরিতে সাহায্য করে।
এটি জয়েন্টের প্রদাহ কমিয়ে ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে
এবং ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে মেরামত করে।
চিকিৎসায় উপকারিতা ও রেফারেন্স
হালকা থেকে মাঝারি ধাপের
অস্টিওআর্থ্রাইটিসের (Kellgren-Lawrence গ্রেড ১-৩) জন্য পিআরপি অত্যন্ত কার্যকর।
বিশেষ করে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে পিআরপি হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের
চেয়ে বেশি কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেয়।
রোগীর বয়স ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের
ধাপ বিবেচনা করে চিকিৎসক থেরাপির সিদ্ধান্ত নেবেন।