কাতারে ছয় মাস ধরে বন্দি তিন ইরানি পাইলট

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

কাতারি বাহিনীর হাতে তিন ইরানি পাইলট ছয় মাস ধরে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কমিটির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ বাগেরজাদেহ এ দাবি করেছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরানের ফার্স নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করে। 

তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে হামলা চালানোর সময় তিন পাইলটের সু-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। তবে দুর্ঘটনার পর তারা জীবিত ছিলেন এবং কাতারি বাহিনী তাদের আটক করে।

বাগেরজাদেহ তিন পাইলটের নাম জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরুশিয়ান বলে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আটকের পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কাতার সরকার যুদ্ধবন্দিদের অধিকার রক্ষা করেনি। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বাগেরজাদেহ আরও বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধানের পরও ওই তিন পাইলটের সঙ্গে পরিবারের সদস্য কিংবা তাদের বিষয়টি দেখভালকারী কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ, কথা বলা বা যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

তবে আল-জাজিরার সূত্রমতে ,ইরানি পাইলটদের গোপনে আটক রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার।  দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্চে অনুমতি ছাড়া দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ওই বিমানগুলোর সঙ্গে কাতারি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যোগাযোগের চেষ্টা করে। সতর্কবার্তার কোনো জবাব না পাওয়ায় বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরে উদ্ধারকারী দল এক পাইলট মাজিদ কাজেমির মরদেহ উদ্ধার করে এবং তাঁর মরদেহ ইরানের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর বেঁচে যাওয়া কোনো ইরানি পাইলট কাতারের হেফাজতে নেই বলে দাবি করে কাতার। 

পাইলট আটকের এই বিরোধের মধ্যেও কাতার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে অগ্রগতি না থাকায় আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত