সুই সুতায় গাঁথা সুমাইয়ার জিপিএ-৫ 

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

অর্ধাহার ও অনাহারের সঙ্গে সুই-সেলাইকে অস্ত্র বানিয়ে লেখাপড়ায় কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে লড়াই করে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন দিন মজুর কন্যা সুমাইয়া।

সুমাইয়া যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নর আবু দাউদ মোল্লা ও নাছিমা খাতুনর ছোট মেয়ে। সে মনিরামপুর কারিগরি ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট থেকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। যেখানে হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে মোট একজন ও চান্দুয়া সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে মোট তিন জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে ফেল করে সেখানে সুমাইয়া খাতুন জিপিএ-৫ পায়।

সুমাইয়ার বাবা আবু দাউদ দিনমজুরর কাজ করেন। মা নাছিমা খাতুন গৃহিণী ও সেলাইয়ের কাজ করেন। তাদের দুই মেয়ের সংসার আর্থিক টানাপোড়ন নিত্যদিনর সঙ্গী। পড়াশোনার খরচ মেটাতে  হিমশিম খেতে হয় সেলাই এর কাজ করে লেখাপড়ার একটা একটা খরচ চালিয়েছে সুমাইয়া। এরপরও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমতি ছিল না তার। ভবিষ্যৎ সরকারি চাকরি করবে এমনই স্বপ্ন দেখে সে। 

সুমাইয়ার মা নাছিমা খাতুন বলন, ‘মেয়েকে ঠিকমতো খাতা-কলমও দিতে পারিনি। নিজের পড়াশোনার খরচ সেলাইয়ের কাজ করে নিজেই চালিয়ে গেছে।’

বাবা আবু দাউদ বলন, ছোটবেলা থেকেই সুমাইয়া পড়াশোনায় ভালো। প্রায় সব ক্লাস ফাস্ট হয়। মেয়েকে ভালো কাপড় দিতে পারিনি, পড়ার খরচও জোগাড় করতে পারিনি-এটা আমার কষ্ট।

এখন উচ্চশিক্ষায় মেয়েকে কীভাবে পড়াবেন, তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আবু দাউদ পরিবার।

প্রতিবেশী আবু বলন, দারিদ্র্য কী? অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে এমন ফলাফল পাওয়া যায়। প্রতিকূলতার মধ্যও ভালো ফল করা সম্ভব। সুমাইয়া তার উদাহরণ।

মনিরামপুর কারিগরি ভাকশনাল ইন্সটিটিউটর সুপার আব্দুল্লাহ ফারুক আল মাহমুদ বলন, সুমাইয়া আমাদের প্রতিষ্ঠানটির সুনাম তৈরি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত