রাঙ্গামাটি কাপ্তাই লেকের সীমানা জরিপ করে সেখানে থাকা অবৈধ দখলদারদের তালিকা করা এবং তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত বিষয়ে এক আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। চার মাসের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, ২০২২ সালে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই লেকে অবৈধ দখলদার কর্তৃক দূষণ ও দখল নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করে পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। একই বছরের ১৭ অক্টোবর রুল দেয় হাইকোর্ট।
পাশাপাশি জরিপ করে সেখানে থাকা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় আদালত। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরুর পর প্রকৃত অবৈধ দখলদার নির্ধারণ করতে জরিপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে অনুসারে আদালত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে (ডিসি) জরিপ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। কিন্তু শুধু জেলা প্রশাসন জরিপ করতে গিয়ে তারা জটিলতার মুখে পড়ে। এরপর জেলা প্রশাসন জরিপ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে।
তিনি বলেন, এইচআরপিবির পক্ষে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করা হয়, যাতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কাপ্তাই লেকের ম্যাপ অনুসারে সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশনার আরজি জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে হাইকোর্টের এ আদেশ হলো।
মনজিল মোরসেদ বলেন, কাপ্তাই লেক এলাকায় বর্তমানে অবৈধ দখলকারী অনেকেই মালিকানা দাবি করে সেখানে অবস্থান করছেন। এতে করে সেখানকার পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। যে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।