প্রয়াত শ্রীলঙ্কার প্রখ্যাত গায়িকা নন্দ মালিনী

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

৮২ বছরের শেষ প্রান্তে এসে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন শ্রীলঙ্কার প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নন্দ মালিনী। তার মৃত্যুতে শ্রীলঙ্কা সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নন্দ মালিনীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাকে ‘আমাদের সময়ের সত্যিকারের সংগীত কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, নন্দ মালিনীর কালজয়ী সংগীত শ্রীলঙ্কার তরুণ ও প্রবীণ- সব প্রজন্মের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। 

১৯৪৩ সালের ২৩ আগস্ট শ্রীলঙ্কার কালুতারার একটি গ্রামে জন্ম নন্দ মালিনীর। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। রাজধানী কলম্বোয় পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৫৬ সালে কলম্বোয় একটি কবিতা আবৃত্তি ও গান প্রতিযোগিতায় জয়ী হন মালিনী। এটিকেই তার সংগীতজীবনের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। পরে ধীরে ধীরে তিনি শ্রীলঙ্কার সিংহলি সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে গান গেয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। তার কিছু গানে দুর্নীতি ও সামাজিক অনিয়মের সমালোচনা করা হয়। আবার কিছু গানে জাতি ও ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়। 

স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাযড়ানোর বার্তাও ছিল তার অনেক গানে। সে সময় শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বামপন্থী কর্মীরা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তরুণদের বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য এবং দেশের অভিজাত শ্রেণির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। একই সময়ে জাতিগত উত্তেজনাও তীব্র হচ্ছিল। এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালে শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। 

অস্থির সেই সময়ে নন্দ মালিনীর গানও সরকারের নজরে আসে। তৎকালীন কর্তৃপক্ষ জাতীয় বেতারে তার গান প্রচার নিষিদ্ধ করে। তবে এতে তার জনপ্রিয়তা কমেনি। ভক্তরা তার গান শোনা এবং কনসার্টে যাওয়া চালিয়ে যান। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় তার আলোচিত অ্যালবাম ‘পাওয়ানা’। এই অ্যালবামের গানগুলোতে মানবাধিকার, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং সামাজিক নানা সমস্যা উঠে আসে। মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাড়ানোর আহ্বান জানানো হয় এসব গানে। ‘পাওয়ানা’ অ্যালবামটি পরে শ্রীলঙ্কার অস্থির রাজনৈতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগীতকর্ম হিসেবে পরিচিতি পায়। দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে এই অ্যালবামের গানগুলোকে এখনও গুরুত্বপূর্ণভাবে দেখা হয়। 

দশকের পর দশক ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নন্দ মালিনীর সক্রিয়তা থেমে থাকেনি। বিভিন্ন সময়ে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলেছেন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই আন্দোলনের প্রতিও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান মালিনী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত