বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া পেশেন্টস অ্যান্ড প্যারেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা কলেজে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি কামরুন নাহার মুকুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাসরিন ফেরদৌসী এবং সহ. প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারহিন ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এ. কে. এম ইলিয়াস, অধ্যক্ষ, ঢাকা কলেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার মাহামুদ, উপাধ্যক্ষ, ঢাকা কলেজ এবং মো. আনিসুর রহমান মজুমদার, প্রধান, ফিনানশিয়াল ইনক্লুশন সেল, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি কামরুন নাহার মুকুল জানান, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি থ্যালাসেমিয়া বাহক রয়েছে। বাহকে বাহকে বিয়ে হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই দেশে দ্রুত এই রোগটি মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে সত্তর হাজারেরও বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে।
সেমিনারে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে থ্যালাসেমিয়ার বাহক (Carrier) শনাক্তকরণের লক্ষ্যে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা ও বাহক শনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় প্রধান, হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার ভয়াবহ চিত্র, রোগটির মারাত্মক চিকিৎসা-ব্যয় এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অধ্যাপক ডা. মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বাহক শনাক্ত করা এবং বাহক-বাহক বিয়ে এড়িয়ে চলাই থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে থ্যালাসেমিয়ার বোঝা থেকে অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব।
সেমিনারে শিক্ষার্থীদের আরও সম্পৃক্ত ও সচেতন করতে মূল প্রবন্ধের ওপর একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বেশিরভাগ থ্যালাসেমিয়া বাহক নিজেদের অজান্তেই তাদের শরীরে এই রোগের জিন বহন করে চলেছেন, তারা যে বাহক এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না, কেননা বাহকের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। একমাত্র হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস টেস্টের মাধ্যমে কেউ বাহক কিনা তা জানা যায়। ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, বাহক শনাক্তকরণ এবং বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাই এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ছাত্রীদের আর্থিকভাবে সচেতন করতে প্রাইম ব্যাংকের ‘এমপাওয়ারিং ইয়ুথ’
চোলাই মদসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার